উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র ১,৫০০ শয্যার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা আছে মাত্র ১০টিতে। ফলে হামে আক্রান্ত শিশুসহ মুমূর্ষু রোগীদের আইসিইউ চিকিৎসা পাবার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় গত ২০ দিনে বিনা চিকিৎসায় ৮১ জন রোগী মারা গেছে।
আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীর মৃত্যু বা রিলিজের অপেক্ষায় আছেন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা অর্ধ শতাধিক রোগীর স্বজনরা। তারা ওয়ার্ডের সামনে করিডোরে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন, কখন বেড ফাঁকা হয়।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও কর্মকর্তা এবং রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন বিভাগের ৮ জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসেন শত শত মানুষ। হাসপাতালের বেড সংখ্যা কাগজ কলমে দেড় হাজার হলেও রোগী থাকে তিন হাজারেও বেশি। অথচ বিশেষায়িত এই হাসপাতালে মুমূর্ষু রোগী যাদের আইসিইউ সাপোর্ট খুবই জরুরি, এ ধরনের শতাধিক রোগীর জন্য আইসিইউ ওয়ার্ডে মাত্র ১০টি বেড।
এদিকে, আইসিইউ ওয়ার্ডের বাইরে দিনের পর দিন অমানবিকভাবে খোলা জায়গায় অবস্থান করতে হচ্ছে ভর্তি থাকা রোগীর স্বজনদের। তাদের অভিযোগ ওয়ার্ড বয়সহ অন্যান্যদের টাকা না দিলে চিকিৎসা সেবা মেলে না। স্বজনদের দাবি, আইসিইউ বেড সংখ্যা কমপক্ষে ৩০টি হওয়া উচিত।
সরেজমিনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেল, প্রবেশ পথে করিডোরের দুই পাশে ২০-২২ জন নারী-পুরুষ মাদুর আর কাঁথা কম্বল বিছিয়ে অবস্থান করছেন। অন্তত ১৫ জনের স্বজন আইসিইউ ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। এদের মধ্যে ৪-৫ জনের অবস্থা আশংকাজনক।
একজন রোগীর স্বজন সুলতান মাসুদ জানালেন, তার বাবা ৯ দিন ধরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এখনও জ্ঞান ফেরেনি। সবচেয়ে বড় সমস্যা নার্স-আয়াদের টাকা না দিলে তারা চিকিৎসা সেবা দিতে নানান টালবাহানা করে।
অপরদিকে, কুড়িগ্রাম থেকে মা রমিছা বেগমকে নিয়ে এসেছেন ছেলে রহমান মোস্তাফিজ। তিনি জানালেন, তার মা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। তার অবস্থা আশংকাজনক। চিকিৎসকরা আইসিইউতে নিতে বলেছেন। কিন্তু বেড না পাওয়ায় তিনি দুই দিন ধরে আইসিইউ ওয়ার্ডের বাইরে অপেক্ষা করছেন।
এ ব্যাপারে আইসিইউ ওয়ার্ডে কর্মরত একজন নার্স জানালেন, মাত্র ১০ বেডের আইসিইউ ওয়ার্ডে মুমূষু অনেক রোগীকে ভর্তি করা যাচ্ছে না। ফলে চিকিৎসার অভাবে প্রতিদিন গড়ে ৪-৫ জন রোগী বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। এত বড় হাসপাতালে কমপেক্ষ ৩০ থেকে ৪০ বেডের আইসিইউ ইউনিট দরকার।
সার্বিক বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এখন লোকবল আর আইসিইউ সরঞ্জাম প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে।