আম পেড়ে খাওয়ায় তিন শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত ও জুতার মালা পরানোর অভিযোগ

বগুড়া সদরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছ থেকে আম পেড়ে খাওয়ায় তিন শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত এবং গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে। এ ঘটনায় ‘আমচোর’ লেখা কাগজ পরিয়ে তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।  

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজোয়ান হোসেন এসব তথ্য দিয়েছেন। 

ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। এ ঘটনায় গত সোমবার (৪ মে) বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। বগুড়া সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিকে আগামী বুধবারের (৬ মে) মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবীর জানান, ২৮ এপ্রিল বগুড়া সদর উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে থাকা একটি আমগাছ থেকে কয়েকজন শিশুশিক্ষার্থী আম পেড়ে খায়। পরদিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগম চতুর্থ শ্রেণির দুজন এবং পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অফিসকক্ষে ডেকে এনে বেত্রাঘাত করেন। এরপর তিন শিক্ষার্থীর গলায় জুতার মালা ও ‘আমচোর’ লেখা কাগজ ঝুলিয়ে দেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। জুতার মালা বানানো থেকে শুরু করে তা শিক্ষার্থীদের গলায় পরানোর কাজে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকেরাও প্রধান শিক্ষককে সহযোগিতা করেন। 

সকালে তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অভিযুক্ত শিক্ষকদের বক্তব্য শোনেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “আগামীকাল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করা হবে।”

আবু সালেহ নামে স্থানীয় এক অভিভাবক জানান, স্কুলের গাছের আম পেড়ে খাওয়ায় শাস্তির পর শিশুদের মধ্যে ভয় ও লজ্জা দেখা দেয়। তোপের মুখে প্রধান শিক্ষিকা স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চান। এরপরও অভিভাবকরা ওই ঘটনায় জড়িত প্রধান শিক্ষিকাসহ সকল শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে গেলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগমকে পাওয়া যায়নি। অন্য শিক্ষকেরা জানান, তিনি ছুটিতে আছেন। একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিন শিক্ষার্থীকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর বিষয়ে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকেরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, যা বলার, তদন্ত কমিটির কাছেই বলবেন। 

মঙ্গলবার বিকালে রেজোয়ান হোসেন জানান, তদন্ত রিপোর্টে অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রধান শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।