ধামরাইয়ে ইটভাটার ধোঁয়ায় পুড়লো ২৫ হেক্টর জমির ধান

ঢাকার ধামরাইয়ের আমতা ইউনিয়নের বাউখন্ড গ্রামের কৃষক খলিল (৫৫) ধার দেনা করে এ বছর ১০০ শতক জমিতে ধানের আবাদ করেছেন। তার আশা ছিল এই জমির ধান দিয়েই তার চার সদস্যের পরিবারের সারা বছর পার হয়ে যাবে। কিন্তু ইটভাটার বিষাক্ত ধোয়া আর তাপে পুড়ে গেছে তার সব ধান। এখন কিভাবে পরিশোধ করবেন ঋণের টাকা, আর কিভাবেই চলবে তার পরিবার। এ আক্ষেপ নিয়ে মঙ্গলবার পুড়ে যাওয়া ধান ক্ষেতের পাশে বিলাপ করছিলেন তিনি।

শুধু তিনিই নন, তার মতো আমতা ইউনিয়নের অন্তত পাঁচটি গ্রামের শতাধিক প্রান্তিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় এরই মধ্যে ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার (৫ মে) সরেজমিনে গেলে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা বলেন, ধামরাইয়ের আমতা ইউনিয়নের নান্দেশ্বরী এলাকায় তিন ফসলি জমির পাশেই গড়ে উঠেছে আলিফ ব্রিকস, টাইগার ব্রিকস নামে একাধিক ইটভাটা। গেল খরা মৌসুমে ওই ইটভাটায় ইট পোড়ানো শুরু হয়। গত সপ্তাহে বৃষ্টির পরপরই ইটভাটার চুল্লির আগুন হঠাৎ বন্ধ করে বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপরই এলাকার বাতাস উত্তপ্ত হয়ে যায়। ওই গরম বাতাস যে দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সেই অংশের ধান ক্ষেতই পুড়ে গেছে। এতে বাউখন্ড, নান্দেশ্বরী, চালা, নারায়ণপুর ও ভবনহাটি এলাকায় প্রায় ২৫ হেক্টর জমির বোরো ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন শুধুই ধানের শীষে চিটা দুলছে।

কৃষকরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অনেকেই ঋণ নিয়ে কিংবা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন। এই ফসল থেকেই তাদের সারা বছরের খাদ্যশস্যের যোগান আসার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ এমন ক্ষতিতে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

তারা বলছেন, ইটভাটাগুলোর কারণে নিয়মিতভাবেই তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবদুল মান্নান মিয়া জানান, আমি ৭০ শতক জমিতে ধান চাষ করেছি। টাকা পয়সা খরচ করে ধান লাগালাম। এখন ইটভাটার ধোঁয়ায় আমাদের সবার ধানই পুড়ে নষ্ট হয়ে গেলো। এই ধানই আমরা সারা বছর পরিবার নিয়ে খেয়ে থাকি। এখন আমরা খাবো কি। পরিবার কে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। আমরা এর বিচার চাই আমাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ চাই।

কৃষক খলিল বলেন, ১০০ শতক জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। কিস্তি তুলে সার কিনেছিলাম, ফলন আসতে শুরু হইছিলো। আর আজকে জমিতে এসে দেখি আমার সব ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এটা দেখে আমার এখন বাঁচার উপায় নাই। এই ধান বিক্রি করেই ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দিয়ে থাকি।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ইটভাটার কারণেই ধানের এ ক্ষতি হয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি বিষয়টি। অতি দ্রুতই কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।”

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আল মামুন বলেন, “কৃষি অফিসার তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যেন যথাযথ ক্ষতিপূরণ পান সেজন্য ইটভাটার মালিক ও কৃষকদের সঙ্গে বসে যথাযথ ব্যবস্থা করা হবে।”