Saturday, July 18, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিদেশে যাওয়ার টাকা না দেওয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের

ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় ফেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও করেছেন তার স্ত্রী

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

বিদেশে যাওয়ার জন্য টাকা না দেওয়ায় স্ত্রীকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছেন রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক। চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় ফেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দত্ত (৪০) রাজধানীর প্রাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। তিনি কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ভুক্তভোগী শিউলি রানী রায় (৩২) কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার নিরোধ কুমার রায়ের মেয়ে।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে নিজের ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দেন শিউলি। সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অ‍াছেন তিনি। এ সময় তার শয্যার পাশে পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

শিউলি জানান, সাত বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। এরপর থেকে তারা রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোড এলাকায় বসবাস করছেন। তবে শুরু থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর নানা ধরনের মানসিক নির্যাতন করতেন। কিছুদিন ধরে স্বামীর বিদেশ যাওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছায়।

তার অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার জন্য স্বামী বারবার তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করতেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ১২ জুলাই রাতে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিদ্যুৎ কুমার দত্ত রুটি বেলার বেলন দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

এতে তার মাথা, মুখমণ্ডল, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া ডান চোখেও আঘাত লাগে বলে জানান শিউলি।

তিনি আরও জানান, মারধরের পর বাপের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন তার স্বামী। আশুলিয়ার নবীনগর গলফ ক্লাব এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তাকে সড়কের ওপর ফেলে রেখে চলে যান বিদ্যুৎ কুমার দত্ত। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগীর ভাই শুভ রায় বলেন, “আমার বোনকে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে গেছেন তার স্বামী। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। আদালতে মামলার প্রস্তুতিও চলছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দত্তের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

   

About

Popular Links

x