বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টিতে যমুনা ও বাঙালি নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং বাঙালি নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, দুই নদীর পানি দু’একদিনের মধ্যে স্থিতিশীল হয়ে কমতে শুরু করবে। তাই আপাতত বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা কম।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনের বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত প্রায় ছয়দিন ধরেই পানি বাড়ছে। এ উপজেলায় যমুনা নদীর পানির বিপৎসীমা ১৬.২৫ মিটার। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় উপজেলার মথুরাপাড়া পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৫.৪২ মিটার। শুক্রবার পানির উচ্চতা হয় ১৫.৫০ মিটার। এছাড়া শনিবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা হয় ১৫.৫৭ মিটার। গত ২৪ ঘন্টায় পানি বেড়েছে, সাত সেন্টিমিটার। যমুনা নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে, বাঙালি নদীর বিপৎসীমা ১৫.৩৬ মিটার। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বাঙালি নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৫.০১ মিটার। শুক্রবার এ পানির উচ্চতা হয়েছে ১৫.০২ এবং শনিবার ১৫.০৩ মিটার। ২৪ ঘন্টায় বাঙালি নদীতে পানি এক সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বাঙালি নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
অন্যদিকে, গত কয়েকদিনের পানি বৃদ্ধির ফলে সারিয়াকান্দি উপজেলার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। দুটি নদীতে পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার কোথাও বাড়িঘরে পানি ওঠার খবর পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকদিনের বর্ষণে উপজেলার বেশকিছু মাছের খামার ভেসে গিয়ে ক্ষতি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে গো-চারণভূমিতে পানি প্রবেশ করেছে।
এছাড়া, উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। নিচু এলাকার পাট ও ধইঞ্চার গাছসহ কিছু ধান গাছ ও বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হতে শুরু করেছে।
যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকায় চরাঞ্চলের মানুষরা বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ বা উঁচু কোথায় আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করছেন।
সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বড় কুতুবপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেন জানান, তার বাড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের বাইরে। তাই প্রতি বছর তিনিসহ তাদের গ্রামের হাজারও মানুষ বন্যার সময় বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেন। গত কয়েকদিন ধরেই যমুনা নদীতে পানি বেড়ে একেবারে বাড়ির কাছে চলে এসেছে। তাই আবার বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বলেন, “উজানের পাহাড়ি ঢল এবং ভারী বর্ষণের জন্য যমুনা এবং বাঙালি নদীর পানি গত কয়েকদিন ধরেই বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যেহেতু পানি বৃদ্ধির হার একেবারে কমে গেছে। তাই ধারনা করা হচ্ছে, যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি দু’একদিনের মধ্যেই স্থিতিশীল হয়ে কমতে শুরু করবে। এ যাত্রায় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে উজানে যদি আবারো ভারী বৃষ্টিপাত হয়, সেক্ষেত্রে পানি আবারও বাড়তে পারে।”



