নারায়ণগঞ্জ শহরের বোয়ালিয়া খাল এলাকায় মাদক সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে র্যাব-১১ এর তিন সদস্যকে কুপিয়ে জখম করে একদল সন্ত্রাসী। এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করে। এতে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীসহ ১৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৬ মে ) সকাল সাড়ে ১১টায় র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত শহরের মাসদাইর এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে মাদক ও অস্ত্রসহ তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন–সোহেল রানা (৪০), আ. রাজ্জাক (৪০), জোবায়ের হোসেন (২২), শামিম আহম্মদ (২২), মিঠুন (৩৪), ইমন প্রধান (২৬), আকাশ (৩০), রুবেল (৩৭), আরাফাত হোসেন (২৮), সুজন (৩২), হৃদয় মিয়া (৩২), টুটুল খান (৩৮) ও রেজাউল করিম (৪৮)। তারা সকলে মাসদাইর এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব কর্মকর্তা জানান, ৫ মে দুপুরে রামগঞ্জ শহরের মাসদাইর বোয়ালিয়া খাল এলাকায় তথ্য সংগ্রহকালে সন্ত্রাসীরা র্যাব সদস্যদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় তিনজন র্যাব সদস্যদের শরীরে জখম হয়।
এরপর, ৫ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে এই চক্রের ১৩ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের আস্তানা থেকে ৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ছুরি-চাকু ১০টি, চাইনিজ কুড়াল ৭টি, রামদা ২টি, চাপাতি ৩টি, সিসি ক্যামেরা ৪টি, ড্রোন ১টি, নগদ ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া, ২৩৫ কেজি গাঁজা, ১১,০০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। যা তারা এলাকায় বিক্রির পরিকল্পনা করছিল। এ ঘটনায় আটক আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার দুপুরে র্যাব-১১ এর চার সদস্যের একটি টিম বোয়ালিয়া খাল এলাকায় গিয়ে নানা তথ্য সংগ্রহ করে। এসময় এক দল সন্ত্রাসী র্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ধারালো অস্ত্রসহ ধাওয়া দেয় ও তিনজন সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।