রংপুরে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে ২ নৃশংস হত্যাকাণ্ড

রংপুরের পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলায় মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (৬ মে) রাতে সংঘটিত এসব ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ দুইটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার(৭ মে) দুপুর পর্যন্ত কোনো মামলার তথ্য পাওয়া যায়নি এবং কাউকে এখনও আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

পীরগঞ্জে কৃষককে হত্যা করে ট্রান্সফরমার লুট

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের বড় উমরপুর এলাকার কৃষক মফিজার রহমান স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে যৌথভাবে বোরো ধানের জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার স্থাপন করেছিলেন। নিয়মিতভাবে রাতের বেলায় তিনি গভীর নলকূপ পাহারা দিতেন।

বুধবার রাতেও তিনি নলকূপে যান। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা নলকূপের ঘরের ভেতর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও এলাকাবাসীর ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করার পর বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারটি লুট করে নিয়ে গেছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

নিহতের চাচাতো ভাই আবুল কাশেম বলেন, “এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

পীরগঞ্জ থানার ওসি নাজমুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

মিঠাপুকুরে গরু খামারিকে জবাই করে হত্যা

অপর হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে মিঠাপুকুর উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নে। বৃহস্পতিবার সকালে নাগেরহাট-কদমতলা সড়কের কসবা এলাকার একটি আমবাগানের পাশে এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের গলা ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাকে জবাই করে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মরদেহের ছবি ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা এসে নিহত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন। নিহত আবু সাঈদ মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের উঁচাবালুয়া বালাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি গরুর খামার পরিচালনা করতেন।

স্বজনরা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় বাড়ির কাজ শেষে পাশের শাল্টির বাজারে যান আবু সাঈদ। রাত ৮টার দিকে চাচা বিপুল মিয়ার সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। এরপর রাতভর তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মরদেহের ছবি দেখে তারা তাকে শনাক্ত করেন।

মিঠাপুকুর থানার ওসি (তদন্ত) নুর আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।