জুলাই গণআন্দোলনের সময়ের ঘটনায় করা দুটি পৃথক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এর আগে, পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বহাল থাকায় আপাতত তার কারামুক্তিতে আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচারপতি খায়রুল হকের করা পৃথক দুটি জামিন আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
একইসঙ্গে কেন তাকে এসব মামলায় স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে পৃথক দুইটি রুলও জারি করেছেন আদালত।
খায়রুল হকের আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু সংবাদমাধ্যমকে জানান, একটি মামলা যাত্রাবাড়ী থানায় আরিফ নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে এবং অন্যটি আদাবর থানায় রুবেল নামে একজনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, হাইকোর্টের এই জামিন আদেশের পর কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে খায়রুল হকের মুক্তি পেতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
জামিন আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি খায়রুল হকের পক্ষে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও জাহাঙ্গীর হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া।
জুলাই গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে, ২৮ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অন্য পাঁচটি মামলায় খায়রুল হককে দেওয়া হাইকোর্টের জামিনের আদেশ বহাল রাখেন।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এ বি এম খায়রুল হক। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তার নিয়োগ কার্যকর হয়। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। পরে তিনি তিন দফায় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।