পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে বড় সুখবর

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভাগ্য পরিবর্তনে বিশাল এক মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। রাজবাড়ী জেলার পাংশায় দেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘পদ্মা ব্যারাজ’। 

বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

একনেক বৈঠক শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে আগামী পাঁচ বছরে এটি বাস্তবায়িত হবে, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হবে।

মন্ত্রী জানান, এই ব্যারাজ নির্মিত হলে দেশের মোট আয়তনের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা সরাসরি উপকৃত হবে। বিশেষ করে ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষের কৃষি, মৎস্য ও জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে। তিনি বলেন, “খাল খননের মাধ্যমে পানি আনা আমাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা। তবে প্রকল্পের মাধ্যমে পানি ধরে রাখার কারিগরি দিকটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ নিয়ে ভারতের সঙ্গে কোনো আলোচনার প্রয়োজন আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সরাসরি বলেন, “পদ্মা ব্যারাজ আমাদের অভ্যন্তরীণ ও স্বার্থের ব্যাপার। এটি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই। গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়া বর্তমানে সচল আছে। গঙ্গা চুক্তি বাস্তবায়নে আমাদের কারিগরি দল কাজ করে যাচ্ছে।”

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আরও উল্লেখ করেন যে, ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাবে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতেই এই উদ্যোগ। রাজবাড়ীতে ব্যারাজের যে অংশটি নির্মিত হবে, সেখানে গঙ্গার পানি মজুদ করা হবে যা শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা যাবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আন্তঃসীমান্ত ৫৪টি নদীর হিস্যার বিষয়টি এই প্রকল্পের আলোচনার বিষয় নয়।