অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচার: ৬ চীনা নাগরিকসহ ৮ জন রিমান্ডে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধভাবে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চীনে অর্থ পাচারের অভিযোগে দেশটির ছয় নাগরিকসহ ৮ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এই আদেশ দেন। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই রেজাউল করিম এ তথ্য সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। 

এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের সাইবার টিমের এসআই সুব্রত দাশ রমনা মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি সাইবার টিম দক্ষিণের এসআই মো. রাশেদুল ইসলাম প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। 

গ্রেপ্তার রোকন উদ্দিনের আইনজীবী দাবি করেন, রোকন ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না। পরে আদালত ৮ জনের রিমান্ড ও রোকনকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয়। 

এর আগে, বুধবার রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগে কয়েকটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। 

ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে করে সংস্থাটি। 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নিয়মিত সাইবার নজরদারিতে ফেইসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপে এবং বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন, ডিপোজিট বোনাসের প্রলোভন এবং বিকাশ বা নগদ ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেনের তথ্য শনাক্ত হয়। এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বল্প সময়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল। সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর ও তুরাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে তিনটি ৬৪-পোর্ট বিশিষ্ট, একটি ২৫৬ পোর্ট বিশিষ্ট এবং একটি ৮ পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম সিম মডিউল বা জিএসএম গেটওয়ে (ভিওআইপি গেটওয়ে), বিভিন্ন অপারেটরের প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ এবং স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।