নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি স্কুলে পুরোনো প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে উপজেলার শম্ভুপুরা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের ৪০১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ দিন ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
পরীক্ষা শেষে বিষয়টি সবার নজরে আসলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় কেন্দ্র সচিব শম্ভুপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান মৃধাকে। বাকিদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
পরীক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আতাদী উচ্চবিদ্যালয়, জাঙ্গালিয়া উচ্চবিদ্যালয় ও কবি নজরুল উচ্চবিদ্যালয়ের মোট ২৫৪ জন শিক্ষার্থী ওই কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪০১ নম্বর কক্ষে থাকা ৫৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র দেওয়ার কথা ছিল। তবে তাদের হাতে ২০২৫ সালের সিলেবাসভিত্তিক প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত পাঠ্যসূচির বাইরে থাকা প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য হয়।
পরীক্ষা শেষে বিষয়টি জানাজানি হলে পরীক্ষাকেন্দ্র এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত সমাধান ও ন্যায্য মূল্যায়নের দাবি জানান।
এ বিষয়ে শম্ভুপুরা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান মৃধা বলেন, “আজ সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে সঠিকভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তবে এমসিকিউ পরীক্ষার সময়ে ভুলবশত ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি আমরা জানতে পারি। এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড, ইউএনও সহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।”
ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, হল সুপারের ভুলের কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
আড়াইহাজার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউল হক বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুর রহমান জানান, ভুল করে ২০২৫ সালের এমসিকিউ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষে উত্তর মেলাতে গিয়ে বিষয়টি বুঝতে পারে। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব, হল সুপার, দুজন কক্ষ পরিদর্শক ও ট্যাগ অফিসারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ঢাকা বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের রোল নম্বর লিখে বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে যেসব প্রশ্ন সিলেবাসের সঙ্গে মিল আছে, সেগুলোর ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।
এর আগে, গত ২১ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় ২০২৫ সালের সিলেবাসের সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে ১৭৭ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরীক্ষা গ্রহণের দেড় ঘণ্টা পর বিষয়টি জানাজানি হলে নতুন প্রশ্নপত্রে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। ওই ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ ১১ শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।