ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিদ্যালয়ের খোলা মাঠ থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ৫০টি উত্তরপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠ সংলগ্ন শহীদ মিনারের পাশ থেকে খাতাগুলো উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ খাতাগুলো জব্দ করে।
বোর্ড পরীক্ষার মতো স্পর্শকাতর উত্তরপত্র কীভাবে মাঠে পড়ে ছিল, কার দায়িত্বে ছিল এবং কার অবহেলায় এমন ঘটনা ঘটলো তা নিয়ে জেলা শিক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই এলাকা থেকে দ্বিতীয়বার পরীক্ষার খাতা উদ্ধারের ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে হাঁটাহাঁটির সময় শহীদ মিনারের পাশে খাতাগুলো পড়ে থাকতে দেখেন কয়েকজন যুবক। কাছে গিয়ে তারা দেখতে পান, সেগুলো এসএসসি পরীক্ষার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের উত্তরপত্র। প্রতিটি খাতায় পরীক্ষার্থীদের লেখা উত্তর ছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন অনেকে।
এ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা যায় দর্শনার্থীদের। এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের ছেলে মেয়েরা বছরের পর বছর কষ্ট করে এসএসসি পরীক্ষা দেয়। সেই খাতা যদি রাস্তায় পড়ে থাকে, তাহলে এদেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার উপর আমাদের কিভাবে আস্থা থাকে?”
স্থানীয় বাসিন্দা শাহেদ আলম জানান, এভাবে মাঠে পরীক্ষার খাতা পড়ে থাকা খুবই উদ্বেগজনক। এগুলো শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। কীভাবে এমন গুরুত্বপূর্ণ কাগজ বাইরে চলে এলো, সেটার সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার।
কয়েকজন এসএসসি পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের কাছে এসএসসি পরীক্ষা জীবনের প্রধান একটা ধাপ, সেটার এরকম অবস্থা দেখলে আমাদের পায়ের তলার মাটি কেঁপে ওঠে। আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যদি এরকম ছিনিমিনি খেলা চলে তবে শুধু চেষ্টা করেই কি আমরা ভবিষ্যত জীবনে সফল হতে পারবো? এটা পুরো শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আমাদের অনাস্থা তৈরি করছে।”
তারা আরও বলেন, “পরীক্ষার খাতা সংরক্ষণের দায়িত্ব যাদের ওপর থাকে তাদের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। কয়েকদিন আগেও একই এলাকায় অন্য পরীক্ষার খাতা পাওয়া গেছে। এরপরও যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে বোঝা যায় বড় ধরনের গাফিলতি রয়েছে।”
দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এই শিক্ষার্থীরা।
এর আগে, গত ৯ মে একই এলাকার পাশে অনার্স চতুর্থ বর্ষের সমাজকর্ম বিভাগের ১১টি পরীক্ষার খাতা পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। পরপর দুটি ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তরপত্রগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। খাতাগুলো বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।”
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) সরদার মোস্তফা শাহীন জানান, এ পরীক্ষাটি গত ৫ তারিখে সম্পন্ন হয়েছে তাই স্থানীয় কোনো কেন্দ্রের বা এ জেলার কোনো পরীক্ষার্থীর খাতা সম্ভবত এগুলো নয়।
তার মতে, বোর্ড থেকে নম্বর বন্টনের জন্য যে শিক্ষকরা খাতা পেয়ে থাকেন তাদের মাধ্যমে এটা মিসিং হয়ে থাকতে পারে। এগুলো কোন কেন্দ্রের বা কোন স্কুলের খাতা সেটা চিহ্নিত করা অসম্ভব। একমাত্র বোর্ড এটা বলতে পারবে।
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কীভাবে এবং কার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এসব খাতা বাইরে গেল, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।