নীলফামারী সদর এলাকায় স্ত্রীকে ঘরে আটকে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এতে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিথী আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিথী।
নিহত বিথী আক্তার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের নিজামের চৌপথী বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এক সন্তানের জননী ছিলেন।
স্বজনদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের সোনাখুলী জামবাড়ি গ্রামের সাজু মিয়ার সঙ্গে বিথীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা সদর উপজেলার গাছবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল।
৯ মে বিকেলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে সাজু মিয়া বিথীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে ঘরের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
এ সময় বিথীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে নীলফামারী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা মাসুদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন জামাই। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে পরিবার থেকে সহায়তা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর চাচা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সদর থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, “অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”