দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। 

সোমবার (১৮ মে) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত ২৩ মার্চ বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বেশ কয়েকটি মামলায় তাকে দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে ৭ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের দুই দিন পর ২৫ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ তাকে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। কয়েক দফা শুনানি পিছিয়ে সোমবার রাখা হয় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানির জন্য। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন দুদক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি। শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠান।

গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, “মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও অন্যান্যরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা সরকার নির্ধারিত ৭৮,৯৯০ টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রিক্রুটের জন্য এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করে বিভিন্ন ধাপে বাড়তি অর্থ নেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে সরকার দলীয় এমপির প্রভাব খাটিয়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করেন। তারা চুক্তিবদ্ধ আইনসঙ্গত পারিশ্রমিক ব্যতীত এবং চুক্তি বহির্ভূত কাজ করে পাবলিক সার্ভেন্ট হিসাবে অবৈধ পারিতোষিক গ্রহণ করেন।”

এছাড়া মালয়েশিয়ায় পাঠানো ৭,১২৪ জন কর্মীর কাছ থেকে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতি কর্মীর কাছ থেকে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।

এ ঘটনায় গত ১১ মার্চ মাসুদ উদ্দিনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

দুদকের আবেদনে আরও জানানো হয়, মাসুদ উদ্দিন জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন, এ জন্য এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।