খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের তিনতলার স্টোর রুমে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৪৫ মিনিট পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বুধবার (২০ মে) সকালে আগুনের ধোয়ায় পাশের রুমে আটকে থাকা পাঁচজনকে ল্যডার দিয়ে উদ্ধার করা হয়। আগুনের খবরে হাসপাতালে থাকা বেশ কিছু রোগী ও স্বজনরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স খুলনার ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক (ডিডি) মাসুদ সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বুধবার ভোর ৬টার দিকে খুমেক হাসপাতালের চারতলা ভবনের তিনতলার স্টোর রুমে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ৬টা ৪৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আরও ১০ মিনিট পর আগুন সম্পূর্ণ নেভানো হয়। এ সময়ে পাশের রুমে আগুনের ধোয়ায় আটকে পড়া ৫ জনকে ল্যাডার দিয়ে বাইরে আনা হয়।
হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থানরত রোগীর স্বজনরা জানান, ভোর ৬টার দিকে হঠাৎ ৪টি বিকট শব্দ হয়। এরপরই তৃতীয় তলায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। সিলিণ্ডার বিস্ফোরণ হতে পারে বলে জানান তারা।
খুমেক হাসপাতালে ইমারজেন্সি অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) দায়িত্বে থাকা সহকারি অধ্যাপক ডা. দিলীপ কুমার জানিয়েছেন, সকাল ৫টা ৫০ মিনিটে ইমারজেন্সি অপারেশন থিয়েটারের পাশে পোস্ট অপারেটিভ রুম এবং পাশের স্টোর রুমের কোনো একটিতে শর্টসার্কিট হয়ে থাকতে পারে। এতে এসির আউটডোর এবং পরে অক্সিজেন আউটডোরে আগুন লেগে যায়। অক্সিজেন আউটডোরের মুখে আগুন লাগার কারণে দরজা বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ওটিতে থাকা দুইজন নার্স ও একজন ডাক্তার জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে পড়েন। তিনজনই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ওটি বিভাগে ১৫ শয্যায় ১৫ জন রোগী ছিলেন। আগুন লাগার পরপরই রোগীদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, “ঠিক কী কারণে আগুন লেগেছে এখনও জানা যায়নি। তবে আগুনের কারণে হাসপাতালে অক্সিজেন সাপ্লাই ব্যাহত হওয়ায় এই মুহূর্তে অপারেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্রুত ঠিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
জানা গেছে, খুমেক হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে এখান থেকে রোগীদের খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য স্বজনরা নিয়ে গেছেন।