রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশুটিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা ইতিমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিশুটি হত্যার পর নিহতের বাবার ‘‘বিচার পাবেন না’’ এমন আক্ষেপের বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিচারের দায়িত্ব সম্পূর্ণ আদালতের। বিচারহীনতার যে বিষয়টা সবাই সব সময় বলে থাকে, এটা সর্বক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিচার বিলম্বিত হয়, সে জন্য মানুষ মনে করে হয়তো বিচার পাবে না। কিন্তু এজাতীয় ক্রাইমগুলো আমি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও দেখেছি। আমি তাদের কৃতিত্ব দিতে চাই, সেই সময়েও এই জাতীয় কয়েকটা ঘটনা অর্থাৎ এমন জঘন্য (হেনিয়াস) ক্রাইমের সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে আইনি ও বিচারিক ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ক্ষেত্রে আমি এইটুকু নিশ্চয়তা (অ্যাসিওরেন্স) দিতে পারি, সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে একটা দৃষ্টান্তমূলক বিচার সম্পন্ন হবে। তবে সাজার কথা আমি বলতে পারব না, সেটা আদালতের বিষয়। মামলার প্রধান আসামি, তার নাম সম্ভবত সোহেল খান, স্ত্রীসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা ১৬৪ ধারায় স্টেটমেন্ট দিয়েছেন।”
যুগোপযোগী আইন সংস্কারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমরা এখন মধ্যযুগে নেই, আমরা আধুনিক যুগে আছি। আইন সংস্কার একটা চলমান প্রক্রিয়া। সমাজের চাহিদা অনুসারে সব আইনকে আপটুডেট এবং যুগোপযোগী করতে হয়। বিভিন্ন আইনে অবশ্যই আমাদের কিছু কিছু সংশোধন আনতে হবে, সেটা আমরা দেখব। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটাও চিন্তা করতে হয়, খুব সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে আবার কোনো অবিচার করা হচ্ছে কি না। অথবা এমন কিছু হলো যে আমরা খুব কঠোরতম আইন প্রণয়ন করলাম, কিন্তু প্রয়োগের ক্ষেত্রে সেটার আবার মিসইউজ বা অপব্যবহার হচ্ছে কি না, এগুলো সব লক্ষ রাখতে হয়।”