বগুড়া কাহালুতে আগুনে পুড়ে সোনিয়া খাতুন (৩০) নামের এক গৃহবধু ও তার শিশু কন্যার করুণ মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের শিকড় স্কুলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, গৃহবধু সোনিয়া খাতুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘরে কেরোসিন তেলের গন্ধ পাওয়ায় প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন এবং আগুনে তার মেয়ে পুড়ে মারা গেছে। প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানায়, মানসিক সমস্যার কারণে সোনিয়া খাতুনের প্রথম স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়। পরে তিনি আবার বিয়ে করেন। এরপর থেকে তিনি মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের শিকড় স্কুলপাড়া গ্রামে বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন। স্বামী মাঝে মাঝে যাতায়াত করতেন। তার শিশু কন্যা পার্শ্ববর্তী দুপচাঁচিয়ার একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।
জানা গেছে, শুক্রবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে সোনিয়ার মা ও ভাবি উঠানে চুলায় রান্নার কাজ করছিলেন। ভাই সেলিম ক্ষেতে কাজ করছিলেন। এ সময় সোনিয়ার ঘরে আগুন দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে কাহালু ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তারা ওই ঘর থেকে সোনিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন। তার দগ্ধ কন্যাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শিশুটি মারা যায়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, ঘরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কেরোসিনের গন্ধ পাওয়ায় ধারনা করা হচ্ছে, সোনিয়া আত্মহত্যার জন্য কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়েছিলেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এ সময় তার মেয়েও দগ্ধ হয়েছিল।
বগুড়ার কাহালু থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, মানসিকভাবে অসুস্থ সোনিয়া এর আগেও একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এ কারণে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে, তিনি ঘরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে তিনি ঘটনাস্থলে ও মেয়ে হাসপাতালে মারা গেছেন। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য দু’টি মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় আপাতত অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।