রামিসা হত্যার বিচারের দাবিতে মিরপুরে সড়ক অবরোধ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এতে এই সড়কে যানবাহন কিছুটা ধীর গতিতে চলাচল করছিল।এরপর যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে লাঠিপেটা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে দুপুর থেকে পল্লবীতে রামিসাকে ধর্ষণের পর শিশু হত্যার ঘটনার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করছিল বিক্ষুব্ধ জনতা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে একদল বিক্ষোভকারী মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। এতে যান চলাচল ব্যাহত হতে শুরু করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এর আগে, জুমার নামাজের পর পল্লবীতে নিহত শিশুর বাসার সামনে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে বেলা ২টার পর বিক্ষোভকারীরা মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নেন। এতে মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচলে ধীর গতি দেখা যায়।

বিক্ষোভকারীরা শিশু হত্যার দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে  বলেন, “বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘক্ষণ ধরেই বিক্ষোভ করছিল। তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের কারণে আমরা কোনো ধরনের বাধা দেইনি। বিক্ষোভের কারণে যানচলাচল ধীর গতিতে চলেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা যানচলাচল বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে যানজট সৃষ্টি হয়। এ সময় তাদেরকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এখন যান চলাচল স্বাভাবিকভাবেই চলছে।”

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোন রাইসা আক্তার চাচার বাসায় যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়। এ সময় ছোট বোন রামিসা তার সঙ্গে যেতে চাইলে তাকে বাসায় রেখে লুকিয়ে বের হয়ে যায় রাইসা। তবে বিষয়টি বুঝতে পেরে রামিসাও দরজা খুলে বড় বোনের পিছু নেয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় সামনের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) রামিসাকে জোর করে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। এরপর তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় ও প্রমাণ লোপাট করতে হত্যা করা হয়।