লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের কলসিরমুখ সীমান্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে জোরপূর্বক খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তাৎক্ষণিক তীব্র আপত্তি ও মাঠপর্যায়ে কঠোর অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত অবৈধভাবে বসানো সেই খুঁটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় ৫১ বিজিবির রংপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ কলসিরমুখ সীমান্ত এলাকায় এই উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে বিএসএফের একটি সশস্ত্র দল আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন সম্পূর্ণ অমান্য করে জিরো লাইনে বা শূন্যরেখায় নিয়মবহির্ভূতভাবে কিছু খুঁটি স্থাপনের কাজ শুরু করে। বিষয়টি সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বরত বিজিবি সদস্য এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের নজরে আসা মাত্রই চারদিকের পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবির কলসিরমুখ সীমান্ত চৌকির (বিওপি) জোয়ানরা বিএসএফের এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে তীব্র আপত্তি জানান এবং অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে শক্ত অবস্থান নেন।
বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন মেনে তাদের অবিলম্বে এই জিরো লাইন ত্যাগ করতে হবে। সেই সঙ্গে বসানো খুঁটিগুলো দ্রুত উপড়ে ফেলার জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়। বিজিবির এমন অনড় ও মুখোমুখি কড়া অবস্থানের মুখে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে তারা তাদের অবৈধ খুঁটি স্থাপনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় এবং ইতিমধ্যে স্থাপিত খুঁটিগুলো দ্রুত অপসারণ করে নিজেদের ক্যাম্পে ফিরে যায়।
রংপুর ব্যাটালিয়নের (৫১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও প্রোটোকল লঙ্ঘন করে বিএসএফ আকস্মিকভাবে সীমান্ত এলাকায় খুঁটি স্থাপনের একটি চেষ্টা চালিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি জানার পর বিজিবি এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে শক্ত ও রণকৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। আমাদের জোরালো প্রতিবাদ ও কড়া অবস্থানের কারণেই বিএসএফ তাদের সীমান্তবিরোধী কার্যক্রম বন্ধ করতে এবং খুঁটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।” বর্তমানে ওই সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের উসকানি মোকাবিলায় বিজিবি সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারি ও টহল বজায় রেখেছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।