যশোরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ৪, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ  

যশোর-খুলনা মহাসড়কের চাউলিয়া তেল পাম্পের সামনে কাভার্ডভ্যানের চাপায় ইজিবাইক ও ভ্যানের চালকসহ ৪ জন নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে ৩ জন। 

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এদিকে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। 

পরে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একইসঙ্গে কাভার্ডভ্যান চালককে আটক করে ধরিয়ে দেয়। 

নিহতরা হলেন, যশোর সদর উপজেলার ঘুনিপূর্বপাড়া গ্রামের ইজিবাইক চালক মোহাম্মদ আইয়ুব আলী, ঘোড়াগাছা সাহাপাড়া গ্রামের বৃষ্টি সাহা ও তার ৪ বছরের শিশু সন্তান সৌভিক সাহা এবং চাউলিয়া গ্রামের ভ্যান চালক আনোয়ার আলী। 

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা থেকে যশোরমুখী একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যান রূপদিয়ার চাউলিয়া তেল পাম্প এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইক ও ইঞ্জিন চালিত ভ্যানকে চাপা দেয়। এতে কাভার্ডভ্যানের নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই ইজিবাইক চালক আইয়ুব আলী ও যাত্রী বৃষ্টি সাহা মারা যান। 

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ার আলী ও সৌভিক সাহা নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। 

বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে সাজ্জাদ হোসেনসহ আরও ২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শাকিরুল ইসলাম। 

নিহত আনোয়ার আলীর ছেলে জামাল হোসেন জানান, ভ্যানে করে তিন যাত্রী নিয়ে চারুলিয়া যাচ্ছিলেন। পথে কাভার্ডভ্যান ইজিবাইক ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানকে চাপা দিলে এতে তার বাবা মারা যান। 

দুর্ঘটনার পরপর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতা ঘটনাস্থলে প্রায় ঘণ্টাখানিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। কাভার্ড ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। 

পরে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

ফায়ার সার্ভিস সদর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে কাভার্ডভ্যানের আগুন নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।” 

যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মাছুম খান বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনার পরে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী কাভার্ডভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।”