র‌্যাবের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আসামি গ্রেপ্তার

খুলনার দাকোপ এলাকা থেকে র‌্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করে ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে র‌্যাব সদস্যরা তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় র‌্যাবের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে, এদিন দুপুরে সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপ উপজেলা সদর চালনার আচাঁভুয়া বাজার এলাকা থেকে বিক্ষুব্ধ লোকজন র‌্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করে আসামি মুকুন্দ মণ্ডল ও রসুল গাজীকে ছিনিয়ে নেয়।

দাকোপ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ খায়রুল বাসার বলেন, “শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জনতা সংঘবদ্ধ হয়ে র‌্যাবের কাছ থেকে মুকুন্দ মণ্ডল ও রসুল গাজীকে ছিনিয়ে নেয়। তবে পাঁচ ঘণ্টা পর স্থানীয়দের সহায়তায় র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে সন্ধ্যা ৬টার দিকে আসামিদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।”

র‌্যাব-৬ এর খুলনার কমান্ডার লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, “আমরা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করেছিলাম। সেখানে জনতা সংঘবদ্ধ হয়ে আসামিদের আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়। সেনাবাহিনীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়, তারাও ঘটনাস্থলে আসেন। পরবর্তীতে আসামিদের আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। আমরা নিয়ম অনুযায়ী তাদের থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছি।”

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর ধরে দাকোপ উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়ি বাঁধের বাইরের প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে আবদুল্লাহ ফকির, বাবলু সানা ও সাজ্জাদ হোসেন সরদার মাছ চাষ করে আসছেন। সম্প্রতি তাদের সঙ্গে খোনা এলাকার মুকুন্দ মণ্ডল, বাচ্চু ফকির ও রসুল গাজীর মাছের ঘের নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।

গত ১৬ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে একদল ব্যক্তি ঘেরটি দখলের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার আকরাম আলী ফকির বাদী হয়ে মুকুন্দ মণ্ডল ও রসুল গাজীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় মামলা করেন। পরে গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ওই ঘের এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পানখালী গ্রামের জসিম মোল্লা, হাফিজুর মোল্লা, আবু মুসা শেখ, জাফর সরদার ও সাজ্জাদ হোসেন সরদার গুরুতর আহত হন। তাদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অপরদিকে, মামলার প্রতিবাদে শনিবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা উপজেলা সদর চালনায় বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় র‌্যাব ৬-এর সদস্যরা ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুকুন্দ মণ্ডল ও রসুল গাজীকে আটক করে। তাদের নিয়ে যাওয়ার সময় সমর্থকরা দাকোপ উপজেলা সদর চালনার আচাঁভুয়া বাজার এলাকায় র‌্যাবের গাড়ি অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন র‌্যাবের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে মুকুন্দ মণ্ডল ও রসুল গাজীকে ছিনিয়ে নেয়।