আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক গণপরিবহন মালিক-শ্রমিকদের জন্য ২৩ দফা বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
রবিবার (২৪ মে) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনাগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। ঈদযাত্রায় সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্ঘটনা রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ডিএমপির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদযাত্রায় টার্মিনালগুলোতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সুনির্দিষ্ট শিডিউল বা সময়সূচি অনুযায়ী বাস ছাড়তে হবে। কোনো অবস্থাতেই ঘরমুখী যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ বা বাড়তি ভাড়া আদায় করা যাবে না।
একই সঙ্গে, বাসের একটি আসন বা সিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা, বাসের ছাদে কোনো যাত্রী বহন করা এবং মহাসড়কে চলাচলকারী পণ্য ও পশুবাহী বিভিন্ন যানবাহনে যাত্রী পরিবহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে চালকদের প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, সড়কে নির্ধারিত গতিসীমা মেনে সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ি চালাতে হবে এবং কোনোভাবেই বেপরোয়া গতিতে যান চালানো যাবে না। বিশেষ করে ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা, রাস্তার বিপজ্জনক বাঁক এবং সরু সেতুতে (ব্রিজ) ওভারটেকিং করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
এছাড়া নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে, ঘুমঘুম ভাব বা কোনো ধরনের শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির হালনাগাদ ফিটনেস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোনো যানবাহন রাস্তায় নামানো যাবে না। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা এয়ারফোন ব্যবহার করা এবং বাসের ভেতরে উচ্চস্বরে গান বাজানো থেকেও চালকদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, চালকদের দিয়ে একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি এবং দিনে সর্বমোট আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য না করার জন্য পরিবহন মালিকদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের উদ্দেশে ডিএমপি জানিয়েছে, সড়কের যত্রতত্র বা মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে বাসে না উঠে সবসময় নির্ধারিত টার্মিনাল বা কাউন্টার ব্যবহার করতে হবে। অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির খপ্পর থেকে বাঁচতে ভ্রমণের সময় অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার, পানি বা পানীয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। যাত্রীদের নিজেদের মালামাল নিজস্ব দায়িত্বে রাখা এবং শেষ মুহূর্তের যানজট এড়াতে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই কাউন্টার বা টার্মিনালে উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, পথচারীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার করে রাস্তা পারাপার হতে বলা হয়েছে। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বা তাড়াহুড়ো করে দৌড়ে রাস্তা পার না হওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি সবাইকে ফুটপাত ব্যবহার করে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে যে, ঈদযাত্রায় যেকোনো ধরনের জরুরি প্রয়োজন, আইনি সহায়তা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে যাত্রীদের তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বাস টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।