সরকারের পক্ষ থেকে গত ২১ মে’র মধ্যে শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করেনি দেশের প্রায় ১৫ শতাংশ কলকারখানা। শিল্পাঞ্চল পুলিশের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত তাদের আওতাধীন ১০ হাজার ২৩৮টি কারখানার মধ্যে ১,৫০০টি কারখানা বোনাস পরিশোধ করেনি। এর মধ্যে পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের কারখানার সংখ্যা ৪০৯টি।
শিল্পাঞ্চল পুলিশের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতের মোট তিন হাজার ২৭০টি কারখানার মধ্যে ৪০৯টি কারখানা এখনো বোনাস দিতে পারেনি।
বোনাসের পাশাপাশি বেতন নিয়েও দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের বেতন পরবর্তী মাসের সাত কার্যদিবসের মধ্যে পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, আলোচ্য ১৬২টি কারখানা ২৫ মে পর্যন্ত এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ করেনি। এর মধ্যে ৯২টিই পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের কারখানা।
তবে এই তালিকায় শুধু শিল্পাঞ্চল পুলিশের আওতাধীন কারখানার হিসাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর বাইরে থাকা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কারখানার তথ্য এতে নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিল্পাঞ্চল পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পোশাক শিল্প মালিকদের বড় সংগঠন বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত এক হাজার ৫৭০টি কারখানার মধ্যে সোমবার পর্যন্ত ২২০টিতে বোনাস দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে বিকেএমইএ’র ৫৮২টি সদস্য কারখানার মধ্যে ১২৬টি এবং টেক্সটাইল মিল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ’র ৫৭টি কারখানাও এখন পর্যন্ত বোনাস পরিশোধ করেনি।
আগামী ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। মালিকপক্ষ জানিয়েছে, বেতন ও বোনাস পরিশোধের সুবিধার্থে মঙ্গলবারও কিছু কারখানা খোলা থাকবে। তবে বিজিএমইএ জানিয়েছে, গত ২৪ মে থেকেই তাদের আওতাভুক্ত অধিকাংশ কারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি শুরু হয়েছে।
এদিকে শিল্পাঞ্চল পুলিশের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে বিজিএমইএ। সংগঠনটির দাবি, তাদের এক হাজার ৭৯৪টি সদস্য কারখানার মধ্যে মাত্র ৪৬টিতে বোনাস বকেয়া রয়েছে এবং এপ্রিল মাসের বেতন বাকি আছে মাত্র তিনটি কারখানায়।
বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মো. রেজওয়ান সেলিম বলেন, “আমাদের সদস্যভুক্ত প্রায় সব কারখানার বেতন ও বোনাস ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। অধিকাংশ কারখানায় ছুটি হয়ে গেছে এবং মঙ্গলবারের মধ্যে বাকি কারখানাগুলোও ছুটি হবে।”