স্বাস্থ্য ডিজি: পোস্টডেলিভারি ওয়ার্ডে মিলেছে ‘শ্বাসরুদ্ধকর’ পরিস্থিতি

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে হাসপাতালের পোস্টডেলিভারি ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ‘শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের মতো পরিস্থিতি’ পাওয়া গেছে। এসি সংক্রান্ত জটিলতা বা অন্য কোনো কারণে কক্ষটির ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”

অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “আমরা দেখেছি, এসিটি এমনভাবে স্থাপন করা ছিল যে এটি বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে আর কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা থাকত না। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতককে আমরা হারিয়েছি।”

তিনি জানান, ওই কক্ষে মোট ১১ জন মা ছিলেন। এর মধ্যে ছয়জন মা তাদের এক থেকে তিন দিন বয়সী নবজাতক নিয়ে ছিলেন। বাকি পাঁচ নবজাতক জন্মগত জটিলতার কারণে হাসপাতালের এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের একজন উপপরিচালক এবং আরও একজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

তদন্ত কমিটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি ছিল কিনা, চিকিৎসাসেবায় গাফিলতি হয়েছে কিনা এবং সংশ্লিষ্ট কক্ষের পরিবেশে কোনো কারিগরি সমস্যা ছিল কিনা এসব বিষয় খতিয়ে দেখবে। বিশেষ করে এসির গ্যাসলাইন লিকেজ বা অন্য যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে। প্রয়োজনে কারিগরি বিশেষজ্ঞদেরও কমিটিতে যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিবেদনে গাফিলতি, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অবকাঠামোগত বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্টঅপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। পুলিশ ধারণা করছে, এসির গ্যাসলাইন লিকেজ বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। রমনা থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।