কোরবানির পর দুর্গন্ধ এড়াতে যেসব ভুল করবেন না

ঈদ-উল-আজাহায় কোরবানির আনন্দের পাশাপাশি বড় একটি বিষয় হলো পরিচ্ছন্নতা। পশু জবাইয়ের পর বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার না করলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকা জুড়ে। এতে যেমন পরিবেশ দূষণ হয়, তেমনি বাড়ে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও। তাই কোরবানির পর ঘর আশপাশ পরিষ্কার রাখা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরবানির জন্য এমন স্থান নির্বাচন করা উচিত, যেখান থেকে সহজে বর্জ্য অপসারণ করা যায়। রাস্তা বা মানুষের চলাচলের জায়গায় পশু জবাই না করাই ভালো। কয়েকজন মিলে নির্দিষ্ট একটি স্থানে কোরবানি করলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও সহজ হয়।

পশু জবাইয়ের পর প্রথমেই রক্ত পরিষ্কার করা জরুরি। রক্ত ঝরে যাওয়ার পর পর্যাপ্ত পানি দিয়ে জায়গাটি ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর জীবাণুনাশক বা চুন ছিটিয়ে দিলে দুর্গন্ধ অনেকটাই কমে যায়।

পশুর নাড়িভুঁড়ি, হাড় কিংবা অন্যান্য উচ্ছিষ্ট খোলা জায়গায় ফেলে রাখা উচিত নয়। এসব দ্রুত পচে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। তাই এগুলো গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়া বা নির্ধারিত ময়লার স্থানে ফেলে দেওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।

কোরবানির চামড়াও দীর্ঘ সময় খোলা জায়গায় ফেলে রাখা ঠিক নয়। যত দ্রুত সম্ভব এতিমখানা, মাদরাসা বা নির্ধারিত সংগ্রহকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া উচিত। এতে পরিবেশও ভালো থাকে, চামড়াও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে।

মাংস বাড়িতে নেওয়ার সময়ও সতর্ক থাকতে হবে। রক্ত যেন সিঁড়ি, উঠান বা লিফটে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। কারণ এসব জায়গায় রক্ত পড়ে থাকলে কয়েকদিন পর্যন্ত দুর্গন্ধ থেকে যেতে পারে।

ঘরের ভেতরে মাংস কাটার আগে মেঝেতে পাটি বা মোটা প্লাস্টিক বিছিয়ে নেওয়া ভালো। কাজ শেষ হলে গরম পানি পরিষ্কারক দিয়ে জায়গাটি ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। পাশাপাশি ছুরি, বটি অন্যান্য সরঞ্জামও পরিষ্কার করে শুকিয়ে রাখতে হবে।

দুর্গন্ধ কমাতে ব্লিচিং পাউডার, চুন, লেবু, লবঙ্গ কিংবা কমলার খোসাও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ঘরের ভেতরের দুর্গন্ধ অনেকটাই দূর হয়।