ঈদ-উল-আজহার মহান আদর্শ ও মূল্যবোধ ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষ্যে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আসুন, বিভেদ নয় ঐক্য; হিংসা নয় সহমর্মিতা; স্বার্থপরতা নয় ন্যায়পরায়ণতা এবং বৈষম্য নয় সাম্যের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঈদ-উল-আজহার মহান আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করি।”
সকালে বঙ্গভবনে ধারণ করা ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রপতি দেশবাসী ও বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানান।
তিনি বলেন, “ঈদ-উল-আজহা মানুষের মধ্যে আত্মত্যাগ, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, সৌহার্দ্য ও সামাজিক সংহতি সুদৃঢ় করে। একইসঙ্গে এ উৎসব বিদ্বেষ, অহংকার ও মনের পশুত্বকে কোরবানি করার এক চিরন্তন ও সর্বজনীন আহ্বান বহন করে।”
রাষ্ট্রপতি তার বার্তায় দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষ, আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপ্রধান পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান ।
পরে বঙ্গভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
এর আগে, সকাল সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রপতি জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন।
পরে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।