জুতাপেটার শিকার এনসিপি নেতাকে টিটিসি থেকে বহিষ্কার

বগুড়ায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) নারী প্রশিক্ষণার্থী ও শিক্ষকদের উত্তপ্ত উত্ত্যক্ত এবং অশালীন আচরণের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আলী আজম সাব্বির খানকে টিটিসি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

সোমবার (১ জুন) টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এসএম ইমদাদুল হক স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে, প্রতিষ্ঠান ছুটির দিন গত ২৪ মে অধ্যক্ষ কক্ষে নির্যাতনের শিকার ছাত্রী ও শিক্ষিকরা তাকে জুতাপেটা করেন। পরে, দলীয় পদ থেকে তাকে অব্যাহতি ও কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়। 

টিটিসি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বহিষ্কার হওয়া আলী আজম সাব্বির খান বগুড়া শিবগঞ্জ পৌরসভার দহিলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এনসিপির শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার সমন্বয়ক সদস্য। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিবগঞ্জ শাখার দায়িত্বশীল পদে ছিলেন তিনি। এরপর বগুড়া টিটিসিতে ৩ মাসের ড্রাইভিং ও আরএসি (রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং) ট্রেডে ভর্তি হন। এরপর তিনি অন্তত বিভিন্ন ট্রেডের ২০ জন ছাত্রী ও ৬জন শিক্ষককে ব্যক্তিগতভাবে এবং মোবাইল ফোনে অশালীন প্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। 

এ ব্যাপারে নির্যাতনের শিকার নারীরা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এসএম ইমদাদুল হকের কাছে অভিযোগ করেন। প্রথমে বিষয়টি মিমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপরও এনসিপি নেতা আলী আজম সাব্বির খান সংশোধন হননি। বরং তিনি ছাত্রী ও শিক্ষকদের দলীয় পদের পরিচয়ে হুমকি-ধামকি দেন। পরে, গত ২৪ মে টিটিসি ছুটির দিন সাব্বির খানকে অধ্যক্ষ কক্ষে ডেকে নিয়ে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে না মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয়। 

এসময় তিনি দোষ স্বীকার করতে অপরাগতা প্রকাশ করায় নির্যাতনের শিকার নারীরা তাকে জুতাপেটা করেন। এরপর সাব্বির খান মুচলেকা দিয়ে রেহাই পান। ওইদিন প্রতিষ্ঠান ছুটি হয়ে যাওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। জুতাপেটা করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে পুরো টিটিসির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। 

টিটিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর রাশেদুল হাসান শাহীন বলেন, “নারী প্রশিক্ষণার্থী ও শিক্ষকদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় তার কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছিল। যেখানে তিনি (সাব্বির) নিজের দোষ স্বীকার করেন। তাই প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার তাকে কঠোর প্রশাসনিক শাস্তির আওতায় এনে বহিষ্কার করা হয়েছে।” 

এ ব্যাপারে এনসিপি নেতা আলী আজম সাব্বির খানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন না ধরায় এ ব্যাপারে তার কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।