Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ছবি ছড়িয়ে দিয়ে তোপের মুখে ওসি

পুলিশের এমন চরম সংবেদনহীন ও বেআইনি আচরণে স্তম্ভিত স্থানীয় সচেতন মহল

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

কক্সবাজারের চকরিয়ায় একজন কিশোরী অপহরণের ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও পরে হামলাকারীদের ওপর পুলিশের নির্যাতনসহ নানা কারণে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। 

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ক্ষোভ ও বিরূপ প্রভাব পড়ে চকরিয়া থানা পুলিশের ওপর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আরকানুল ইসলামকে ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

এ ঘটনার নেপথ্য নির্দেশদাতা হিসাবে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেনের অপসারণ ও শাস্তির দাবি থেকে জনদৃষ্টি সরাতে অভিযানে উদ্ধার হওয়া ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে ‘ঢাল’ হিসাবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। ভিকটিমের একটি ছবি ‘চকরিয়া পুলিশ স্টেশন’ নামের এক ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেছেন খোদ ওসি। 

শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে, বুকের ওড়না সরিয়ে ভিকটিমের সেই আপত্তিকর ছবি ওসি মনির নিজেই তুলেছেন। গত সোমবার (১ জুন) রাতে ছবিটি প্রকাশ করা হয়। 

আইনি সুরক্ষার বদলে পুলিশের এমন চরম সংবেদনহীন ও বেআইনি আচরণে স্তম্ভিত স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীরা। 

কেবল ছবি প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হননি ওসি মনির। অভিযোগ উঠেছে, নিজের ‘তৎপরতা’ জাহির করতে এবং সমালোচকদের কড়া জবাব দিতে সোমবার রাতে ওই ছবির সঙ্গে ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসও জুড়ে দেন তিনি। 

চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ওসির নিজের ভাষায় লেখা ওই দীর্ঘ বয়ানটি ভিকটিমের সুরক্ষার বদলে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরে অবশ্য সমালোচানার মুখে ফেসবুক পেজটি ডিএকটিভ করা হয়। 

পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় চকরিয়ায় এক তরুণীকে উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকাকে লাঠিপেটা করার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ওই রাতেই অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আরকানুল ইসলামকে চকরিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে কক্সবাজার জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। 

পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া তরুণী অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মামলার পর তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে শক্তি প্রয়োগ করা হয়। 

মেয়েটির বাবা বলেন, “আমার মেয়েকে পুলিশ উদ্ধারের পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে চিকিৎসকরা আমার মেয়ের ধর্ষণের আলামত পেয়েছেন বলে ওসি আমাকে জানিয়েছেন। তবে ফেসবুকে আমার মেয়ের ছবি প্রচারের বিষয়ে ওসি আমাকে কিছুই জানাননি, আমার কোনও অনুমতিও নেননি।” 

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির (বার) সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৪ ধারা অত্যন্ত স্পষ্ট। এই আইন অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই নির্যাতন বা ধর্ষণের শিকার কোনো নারী বা শিশুর ছবি, নাম, ঠিকানা বা পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। আইনের রক্ষক হিসেবে ওসির এই আচরণ শুধু দুঃখজনকই নয়, সরাসরি বিদ্যমান আইনের লঙ্ঘন। এর বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, “ভিকটিমের কোনো ছবি বা পরিচয়-ঠিকানা কোনোভাবেই প্রচার করা যায় না, এটি আইন পরিপন্থি এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়।  চকরিয়া ওসি ফেসবুকে ভিকটিমের ছবি দিয়ে ঠিক করেননি।” 

   

About

Popular Links

x