বগুড়ার সদর উপজেলায় আতিকুর রহমান মন্ডল সাগর (৩২) নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার চালিতাবাড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইদের নেতৃত্বে একদল হামলাকারী এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাপলা বেগম (৫৫) নামে এক নারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত সাগর বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শাখারিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। তবে পুলিশের দাবি, তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন আইনে ছয়টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে সাগরের সঙ্গে তার চাচাতো ভাইদের বিরোধ চলছিল। সাগর স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। বুধবার রাত প্রায় ২টার দিকে তিনি বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল টিনের গেট ভেঙে বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।
নিহতের স্ত্রী মারজিয়া খাতুন জানান, স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও হত্যার হুমকি দেয়। পরে গুরুতর আহত সাগরকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও হামলাকারীরা ধাওয়া দিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সাগরের মা সাজেদা বেগম অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আহত অবস্থায় পানি চাইলেও হামলাকারীরা তাকে একফোঁটা পানিও দেয়নি। তিনি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, “জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইসমাইলের মা শাপলা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।“



