দ্বিতীয় দিনেও শূন্যরেখায় আটকে আছেন বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ১০ ব্যক্তি

যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ'র ঠেলে পাঠানো ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশু এখনও সীমান্তের শুন্যরেখায় অবস্থান করছে। 

সোমবার ( ১ জুন) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিএসএফ'র মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। তবে কোনো সমাধান হয়নি।

এর আগে, রবিবার দিবাগত রাতে কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠায় বিএসএফ। বিজিবি ঘটনাটি জানতে পেরে তা প্রতিহত করে। 

একটি সূত্র জানায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় ১০-১২ জনের কয়েকটি গ্রুপ করে ট্রাকযোগে প্রায় ১২০ জনকে সীমান্তে আনে বিএসএফ। এসময় তাদের অতিরিক্ত ফোর্সও ছিলো।

প্রথমে তারা যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সাদিপুর-রঘুনাথপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্ত দিয়ে ওই মানুষদেরকে এপারে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিজিবির বাধার মুখে সে চেষ্টা তাদের ব্যর্থ হয়। পরে রাতভর আশেপাশের বেশ কয়েকটি কাঁটাতারের গেট খুলে তাদেরকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করলে তাও ব্যর্থ হয়। 

যে গেট দিয়ে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে তার আগে সেখানকার সীমান্তের সার্চলাইটগুলো বন্ধ করে দেয় বিএসএফ। তবে টহলরত বিজিবি সদস্যরা সতর্ক থাকায় সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে রাত তিনটার দিকে গেটের এপারে ঠেলে পাঠালেও ওই ১০ নারী-পুরুষ ও শিশু এখনো ভারতের ভূখণ্ডে একটি গাছের নিচে অবস্থান করছে।

এদিকে, এ ঘটনার পর বেনাপোলসহ আশেপাশের সীমান্তে বিজিবি জনবল ও সতর্কতা বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। জনসচেতনা বাড়াতে সীমান্তের গ্রামগুলোতে মাইকিং করতে শোনা গেছে। 

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন,  “গতকাল সন্ধ্যায় বিএসএফ-বিজিবি'র মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু পতাকা বৈঠকটি কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। বিএসএফ'র ঠেলে পাঠানো ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশু দ্বিতীয় দিনের মতো আজও বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর মাঠের ভারত-বাংলাদেশের জিরো লাইনে অবস্থান করছে।”