বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে এক নারী ও তার ২ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) বিকাল ৪টার দিকে মরদেহ ৩টি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা।
নিহতরা হলেন- বরগুনা শহরের কালিবাড়ী এলাকার দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী ইতি রানী বিশ্বাস (৩৪), তাদের মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাস (১২) ও অনুরাধা বিশ্বাস (৩)। নিহত ইতি রানী বিশ্বাস জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে খণ্ডকালীন ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ ইব্রাহিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ডাকবাংলোর তত্ত্বাবধায়ক লিটন বলেন, “আমি দুপুর ২টার দিকে ডাকবাংলোয় আসি। এসে ভাত খেয়ে উপরে উঠে দেখতে পাই, পাশাপাশি দুটি কক্ষের একটি কক্ষের দরজা খোলা। একটু সামনে গিয়ে দেখি, ইতির বড় মেয়ে অচেতন অবস্থায় খাটের উপর পড়ে আছে। অপর একটি রুমের দরজা বন্ধ দেখে আমি পুলিশকে খবর দেই। পরে বরগুনা থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের লাশ উদ্ধার করেন।”
ইতির স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “আমি সকালে সুপারি নিয়ে আমতলী বাজারে যাই। আমতলী থেকে ফিরে ওদেরকে ঘরে দেখতে না পেয়ে পাশের ঘরে জিজ্ঞাসা করি। তখন তারা জানায়, ইতি তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে। কিছুক্ষণ পরেই আমাকে এক বড় ভাই গিয়ে জেলা পরিষদ ডাকবাংলায় নিয়ে আসে এবং এসে এই অবস্থা দেখতে পাই।”
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, “ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ৩ জনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভির ভিডিও দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যা হতে পারে। তবে আরও তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যাবে।”