ঢাকাসহ দেশের ৪৮ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে

ঢাকাসহ দেশের ৪৮ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

চলতি বছর এতো জেলায় এক দিনে এমন তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। সাধারণত মে মাসের শেষ দিনেই দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটে, কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, চলতি মাসে গরম বেশি থাকবে। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে অধিদপ্তর জানায়, ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলা, রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলা, রংপুর বিভাগের ৮ জেলা, বিভাগের ১০ জেলা, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলাসহ চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারী ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। 

শনিবারের আগে এ তাপপ্রবাহ কমার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে। রাজধানীতেও সামান্য সম্ভাবনা আছে। তবে গরম একেবারে কমার সম্ভাবনা কম।  

গত বুধবারও দেশের পাঁচ বিভাগ - ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। এছাড়া গতকাল চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়ও তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। 

আবহাওয়াবিদ বলেন, “চলতি বছরে এখানে এতো এলাকায় তাপপ্রবাহের রেকর্ড নেই। এ মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। তবে তাপপ্রবাহের পরিধি আগামী শুক্রবার থেকে কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।”

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় দিনাজপুরে, ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মাসে তাপমাত্রা বেশি রাজধানীতে, যা আগে আগে কখনো হয়নি।

দেশে সবচেয়ে বেশি গরম পড়ে এপ্রিল মাসে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মে মাসে। কিন্তু চলতি বছর এই দুই মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল। এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ ভাগের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু জুন মাসে যখন মৌসুমি বায়ু চলে আসার সময়, তখন এর দেখা নেই।

অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিনে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং অন্যান্য অঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ রৌদ্রোজ্জ্বল। ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ। এদিন দুপুর ১২টায় রাজধানীর তাপমাত্রার পারদ ঠেকেছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আর আগামী শুক্রবার সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলেও পূর্বাভাসে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে বাতাসে জলীয়বাষ্পের আধিক্য থাকায় এ দুই দিন অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হবে বলেও জানানো হয়েছে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।