টাঙ্গাইলে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গ্রামের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুরের ঘটনায় আইনশৃংখলা পরিস্থতি অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
শুক্রবার (৪ জুন) নতুন করে আবারও দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংর্ঘষ চলছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকেলে গোপালপুর উপজেলার গোল পেঁচা ও ভূঞাপুর উপজেলার জগৎকুড়া গ্রামের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে কালাম তালুকদার (৬৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয় বেশ কয়েকজন।
এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে ১১টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় অন্তত অর্ধশতাধিক দোকানপাট। প্রায় এক মাস আগে বাকির টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এরপর, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নে এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎকুড়া গ্রামে এ আদেশ জারি থাকবে। বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্র জানায়, দুই গ্রামবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নে এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎকুড়া গ্রামে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
এ সময় ওই এলাকার ২০০ গজ সীমানার মধ্যে সকল প্রকার বেআইনী সমাবেশ, স্লোগান, শোভাযাত্রা, পিকেটিং, মাইক্রোফোন ব্যবহার, অননুমোদিত মাইকিং, ঢাকঢোল পিটানো, মোটর সাইকেল চালানো, গোলযোগ সৃষ্টি, লাঠিসোটা, অস্ত্রশস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি পরিবহন এবং সর্বসাধারণের অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির রহমান বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের ১০-১২ জন সদস্য আহত হন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন করে আবারও সংর্ঘষ শুরু হয়েছে।”
এ ব্যাপারে গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লাইলাতুল হোসেন বলেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।”