ব্রাহ্মণবাড়িয়া আবার রণক্ষেত্র, ১ জন টেঁটা বিদ্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার থলিয়ারা গ্রামে দোকানের জায়গা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় সৈয়দ জামাল নামে এক ব্যক্তির পিঠে টেঁটা বিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রবিবার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সাড়ে ৩ ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে  সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামের মিন্দার আলী গোষ্ঠীর জুবায়েরের সঙ্গে মধ্যবাড়ি বড় গোষ্ঠীর জয়নাল মিয়ার একটি দোকানের জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। দোকানটি থলিয়ারা গ্রামের মিন্দার আলী গোষ্ঠীর জুবায়েরের দখলে ছিল। পরে স্থানীয় গ্রাম্য শালিশে গত চারদিন পূর্বে দোকানটি উচ্ছেদের জন্য সিদ্ধান্ত হয়। মিন্দার আলী গোষ্ঠীর লোকজন গ্রাম্য শালিশের রায় প্রত্যাখান করে।

পরে এ নিয়ে রবিবার সকালে আবারও মধ্যবাড়ি গোষ্ঠী ও মিন্দার আলী গোষ্ঠীর লোকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে থলিয়ারা গ্রামের মিন্দার আলী গোষ্ঠীর সৈয়দ জামাল নামে এক ব্যক্তির পিঠে টেঁটা বিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তিনি ওই গ্রামের হাজী জাহের মিয়ার ছেলে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

ঘটনা সম্পর্কে নাটাই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী ভূইয়া জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে এসে দুই পক্ষকে সংঘর্ষ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায়, আমাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পুলিশ দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংর্ঘষে জড়িত থাকার দায়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করেছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা করেনি।