Friday, August 14, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবকটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ

তীব্র গ্যাস সংকটে যাত্রী ও পরিবহন চালকদের চরম ভোগান্তি

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সংকটে বন্ধ রয়েছে সবকটি ফিলিং স্টেশন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। তবে কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক ও পাম্প গুলো চালু হবে সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুরোপুরিভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

জানা যায়,বুধবার থেকে জেলার ৫টি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। এরপর গ্যাস সংকটে বৃহস্পতিবার রাত থেকে সবকটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বাধ্য হয়ে অনেক সিএনজি অটোরিকশা চালক এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন তারা।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধের আগে জেলার ৫টি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করতো বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। যদিও চাহিদা রয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তবে সংকটের কারণে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ ছিল কম। ১৫ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও ২-৩ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হতো। সর্বশেষ গত বুধবার থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমিয়ে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন।

এদিকে, গ্যাসের অভাবে সড়ক-মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশার চলাচল কমে গেছে। এলপিজি সিলিন্ডার দিয়ে স্বল্প সংখ্যক অটোরিকশা চললেও ভাড়া নিচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরাও।

ফরিদ মিয়া নামে এক যাত্রী জানান, শহরের কুমারশীল মোড় বিশ্বরোড যাওয়ার জন্য এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর একটি সিএনজি অটোরিকশা পান। তবে তার কাছে ভাড়া চাওয়া হয় ৮০ টাকা। যদিও নিয়মিত ভাড়া ৪০ টাকা। পরে দরকষাকষি করে ৭০ টাকায় রাজি করান চালককে।

রফিক মিয়া নামে এক সিএনজি  অটোরিকশা চালক জানান, শহরের কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় রুটে অটোরিকশা চালান তিনি। এ রুটে নিয়মিত ভাড়া ৫০ টাকা। তবে গ্যাস সংকটের কারণে গত বুধবার থেকে ৭০ টাকা ভাড়া নিচ্ছিলেন যাত্রীদের কাছ থেকে। বৃহস্পতিবার থেকে এলপিজি সিলিন্ডারে অটোরিকশা চালানোর কারণে ৯০ টাকা ভাড়া নিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সরাইল খাজা গরিবের নেওয়াজ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. মোনায়েম মিয়া জানান, গত বুধবার থেকে ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পক্ষ থেকে গ্যাস না পাওয়ার কারণে সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। যানবাহনে গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ফিলিং স্টেশন বন্ধ করতে হয়েছে।

এদিকে, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পনির ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বলেন, “এলএনজি সংকটের কারণে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। কবে নাগাদ এই সংকট কাটবে সে সম্পর্কে কর্তৃপক্ষও আমাদের কিছু জানাতে পারছে না। তবে আশা করি সহসাই এ সংকট কেটে যাবে।”

   

About

Popular Links

x