আজ ১ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক কফি দিবস। কফি শিল্পের সঙ্গে জড়িত সবার কর্মপ্রচেষ্টার বৈশ্বিক স্বীকৃতি হিসেবে দিনটি পালন করা হয়। তবে এর মূল উদ্দেশ্য কফি চাষি থেকে শুরু করে কোম্পানি পর্যন্ত সব স্তরের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো।
প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি কাপ কফি পান করা হয়। দিনের শুরু হোক কিংবা আড্ডা ও আলোচনা, কফি এখন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কারণে আন্তর্জাতিক কফি সংস্থা (আইসিও) ২০১৪ সালে ১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কফি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১৫ সালে ইতালিতে প্রথমবারের মতো দিবসটি উদযাপিত হয়। ব্রাজিলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কফি উৎপাদিত হলেও কফি পানে এগিয়ে আছে ফিনল্যান্ডের মানুষ।
পানীয় হিসেবে বিশ্বে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে কফি। উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আরও কিছু উপকারী উপাদানের কারণে কফি অনেক রোগের ঝুঁকি কমাতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া কফি পানের আরও কিছু উপকারিতা রয়েছে।
কফি উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল, যারা বিশ্ব সরবরাহের একটি বড় অংশ জোগান দেয়। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভিয়েতনাম বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ কফি উৎপাদন করে। এ ছাড়া শীর্ষ উৎপাদকদের তালিকায় রয়েছে কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ইথিওপিয়া। কলম্বিয়া ল্যাটিন আমেরিকার একটি প্রধান কফি উৎপাদনকারী দেশ, আর ইন্দোনেশিয়া এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কফি উৎপাদক।
কফির উৎপত্তি নিয়ে নবম শতাব্দীর একটি রোমাঞ্চকর লোকগাথা প্রচলিত আছে। কথিত আছে, ইথিওপিয়ার মেষপালক কালদি একদিন লক্ষ করেন, একটি বুনো গাছের লালচে ফল খাওয়ার পর তার ছাগলগুলো অস্বাভাবিক চঞ্চল হয়ে উঠছে। বিষয়টি তার কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়। পরে ওই ফলের বীজ নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। একপর্যায়ে বীজ সেদ্ধ করে পানীয় হিসেবে গ্রহণের প্রচলন হয় বলে ধারণা করা হয়।
ইয়েমেন ও অটোমান সাম্রাজ্যের হাত ধরে ধীরে ধীরে কফি ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে পানীয়টি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে অনেক দেশে কফি শুধু পানীয় নয়, সামাজিকতা, আড্ডা ও কর্মজীবনের সংস্কৃতির সঙ্গেও যুক্ত।
এসপ্রেসো, ক্যাপুচিনো, লাতে ও মোকাসহ নানা ধরনের কফি এখন মানুষের রুচির অংশ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কফি সংস্কৃতির বিস্তার ঘটেছে। কয়েক দশক আগেও আড্ডার প্রধান অনুষঙ্গ ছিল চা, এখন শহরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে আধুনিক কফিশপ। তরুণদের আড্ডা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ফ্রিল্যান্সারদের কাজ কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জায়গা হিসেবে ক্যাফেগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।



