রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত সালাউদ্দিন আম্মার এক বছর আগে ইসলামী ছাত্রশিবিরের “সাথী” পদ হারিয়েছিলেন। “পদ-বাণিজ্য”, নৈতিক স্খলনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে প্রথমে তার “সাথী” পদ স্থগিত এবং পরে বাতিল করা হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, “ঘটনাটি ২০২৫ সালের। কিছু অনিয়মের অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।”
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আম্মারের “সাথী” পদ স্থগিত করে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে তিনি অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে না পারায় ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা ছাত্রশিবিরের একটি চিঠিতেও আম্মারের “সাথী” পদ বাতিলের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ৩১ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে বলা হয়, নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদের তছরুপ এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর “সাথী” পদ স্থগিত করা হয়েছিল।
চিঠিতে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সেপ্টেম্বরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আম্মারের “সাথী” পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন সভাপতি এবং বর্তমানে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে “পদ-বাণিজ্য”র অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।
ওই চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আম্মারের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনসহ কয়েকটি অভিযোগ সংগঠনটির নজরে আসে। এসব অভিযোগ নিয়ে ছাত্রশিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আলোচনা শেষে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁর “সাথী” পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ছাত্রশিবিরের পূর্ণ সদস্য হওয়ার আগে “সাথী” একটি সাংগঠনিক পর্যায়। এই পর্যায় অতিক্রম করার পর সদস্যপদ ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকে।
রাকসু নির্বাচনে শিবিরের “ডামি প্যানেল” হিসেবে আলোচনায় আসা “আধিপত্যবিরোধী ঐক্য” প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন আম্মার। ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন। আম্মারের শিবিরের “সাথী” থাকার বিষয়টি সামনে আসার পর প্যানেলটি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছাত্রশিবিরের একটি চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আম্মারের কর্মকাণ্ড এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হওয়ার অভিযোগের কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তার অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া না দেখানোর জন্য সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আদালতের রায় বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণের তথ্য চিঠিতে উল্লেখ নেই।
এ বিষয়ে জানতে সালাউদ্দিন আম্মারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



