বগুড়ায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছেলে অংশ নেওয়ায় তার বাবা ফারুক হোসেন নামে এক বিএনপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, ফারুক হোসেন দাবি করেন, কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই শুধুমাত্র ছেলের কারণে তাকে অবৈধভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে বগুড়া মহানগর বিএনপির দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে ফারুক হোসেনকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ফারুক হোসেন জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য, মহানগর বিএনপির তথ্য সম্পাদক ও ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
দলীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফারুক হোসেনের ছেলে সিফাত হোসেন (১৮) বগুড়া সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ইসলামী ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সিফাত গত মঙ্গলবার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নেন। তিনি দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মহানগরীর সাতমাথা এলাকায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় সিফাত হোসেনের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীনসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।
এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শিবির কর্মী সিফাত হোসেনের বাবা বিএনপি নেতা ফারুক হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসে। সংগঠনবিরোধী সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে ফারুক হোসেনকে বহিষ্কার করেন, মহানগর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি।
ফারুক হোসেন জানান, তিনি ২২ বছর বিএনপির রাজনীতি করছেন। গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সময় অনেক হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। জুলাই আন্দোলনের সময়ও তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ আটটি মিথ্যা মামলা হয়েছে। এরপরও কখনও দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি। তিনি জেলা বিএনপির নেতা। তাই মহানগর বিএনপি থেকে তাকে বহিষ্কারের এখতিয়ার নেই।
তিনি আরও জানান, তার ছেলে সিফাত হোসেন ছাত্র শিবিরকে সমর্থন করে। সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তাকে (ফারুক) কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ফারুক জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতাকে ইঙ্গিত করে জানান, তাদের পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগ বা জামায়াতের রাজনীতি করেন। ছেলের কারণে যদি তাকে বহিষ্কার করা হয়, তাহলে ওইসব বিএনপি নেতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি আগামী বগুড়া সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী। এ কারণে প্রতিপক্ষরা তাকে ছেলের অছিলায় পরিকল্পিতভাবে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন।
এদিকে বগুড়া মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আশিক আশরাফ জানান, দলের উর্ধ্বতন নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফারুক হোসেনকে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বহির্ভূত কার্যকলাপের কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফারুক হোসেনকে মহানগর ও জেলা বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তবে নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা জানান, ফারুক হোসেন আগামী বগুড়া সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী। এটা অনেকে মেনে নিতে পারছিলেন না। তাই ছেলে শিবির কর্মী শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অজুহাতে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।



