স্বাস্থ্যমন্ত্রী: আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাব সন্তোষজনক নয়

আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সন্তুষ্ট নয়।

বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ কথা জানান।   

তিনি জানান, “হাসপাতালের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে আজ জাতীয় সংসদের বিরতির সময় একটি বৈঠক হবে। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।”

সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বক্তব্য জমা দিয়েছে। আমরা সেটা পর্যালোচনা করেছি। তবে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার বদলে তারা অনেক লম্বা ব্যাখ্যা তুলে ধরেছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, “চার-পাঁচ পৃষ্ঠার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট প্রশ্নগুলোর সরাসরি কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি। পুরো বিষয়টি অস্পষ্ট। এ ধরনের জবাব গ্রহণযোগ্য নয়।” 

গত ৪ জুন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার দিনই স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব তথ্য প্রকাশ করেন। নোটিশের জবাব দেওয়ার প্রাথমিক সময়সীমা ছিল রবিবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই সময়সীমা ৪৮ ঘণ্টা বাড়ায়।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির গত রবিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। 

পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যৌথ আলোচনায় এই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রত্যেক পরিবারকে ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ক্ষতিপূরণ ও হাসপাতালের আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “এ ঘটনায় সরকার আইনজীবী নিয়োগ করে সঠিকভাবে প্রতিবেদন এবং সিদ্ধান্তের বিষয়ে সুপারিশ করবে।” 

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে এক থেকে চার দিন বয়সী ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওই হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তার ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নবজাতক মৃত্যুর ওই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষটি বন্ধ করে দেয় এবং দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ওই মৃত্যুর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, নার্স ও কর্মীদের সুস্পষ্ট অবহেলা এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকের অনুপস্থিতিকে দায়ী করা হয়।