ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। এ অভিযানের প্রতিবাদে জেলা মোটর মেকানিক সমিতির নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা প্রায় দুই ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা।
সোমবার (১৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এ সময় খননযন্ত্র ব্যবহার করে অবৈধভাবে নির্মিত কংক্রিটের দোকান ও স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র বাস টার্মিনালের ভেতরে অন্তত শতাধিক অবৈধ দোকান নির্মাণ করে জায়গা দখল করে রেখেছিল। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশেও গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা। টার্মিনালের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং দখলমুক্ত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে জেলা মোটর মেকানিক সমিতির কার্যালয়ের একটি অংশও ভেঙে ফেলা হয়। এর প্রতিবাদে বিকেল ৩টার দিকে সমিতির নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা ঢাকা বাইপাস এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
জেলা মোটর মেকানিক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি জুলহাস উদ্দিন অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাদের সমিতির কার্যালয়ের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদেই তারা মহাসড়ক অবরোধে নামেন। পরে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর গোলাম মওলা জানান, বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে কেউ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান সরকার রোকন বলেন, “বাস টার্মিনালের ভেতরে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনাগুলোর কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। এসব স্থাপনা সরিয়ে বাস রাখার জায়গা নিশ্চিত করতেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।“