নিজের দুই সন্তানের নামে বগুড়ার নবগঠিত দুটি ইউনিয়নের নামকরণের অভিযোগ নাকচ করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, “এটি কেবলই একটি ‘মিরাকল’ বা কাকতালীয় ঘটনা।”
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপন করেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম। পরে সংসদের ২৭৪ বিধিতে ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ পেয়ে অভিযোগের জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী।
সম্প্রতি প্রকাশিত গেজেটে বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে সৈয়দপুর ইউনিয়নের ১১টি মৌজা নিয়ে “সীমান্ত ইউনিয়ন” এবং দেউলী ইউনিয়নের আটটি মৌজা নিয়ে “দিগন্ত ইউনিয়ন” গঠন করা হয়। প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের দুই সন্তানের নাম যথাক্রমে মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের জবাবে শাহে আলম বলেন, “স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গণশুনানি এবং যাচাই-বাছাই শেষে ইউনিয়ন দুটির নাম নির্ধারণ করেছেন।”
তিনি জানান, গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় নতুন ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে “সীমান্ত ইউনিয়ন”। আর গাইবান্ধার কাছাকাছি ও দূরবর্তী হওয়ায় স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে অন্যটির নাম রাখা হয়েছে “দিগন্ত ইউনিয়ন।”
সংসদে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নামে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি চুয়াডাঙ্গার সীমান্ত ইউনিয়ন, ফেনীর সীমান্ত বাজার ও সীমান্ত বন্দর, কসবার সীমান্ত বাজার, রাজিবপুরের সীমান্ত বন্দর, হবিগঞ্জ পৌরসভার দিগন্ত ওয়ার্ড, সন্দ্বীপের দিগন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বান্দরবানের দিগন্ত বাজারের কথা উল্লেখ করেন।
সন্তানদের নামের সঙ্গে মিল প্রসঙ্গে শাহে আলম বলেন, “মিরাকল হচ্ছে, আমার সন্তানদের নামের সঙ্গে মিলে গেছে ঠিকই। কিন্তু আমার সন্তানদের নাম হচ্ছে ‘মীর সীমান্ত’ ও ‘মীর দিগন্ত’। যদি সত্যিই তাদের নামে ইউনিয়নের নাম রাখতে চাইতাম, তাহলে ‘মীর সীমান্ত’ বা ‘মীর দিগন্ত’ই রাখতাম। এখানে তো ‘মীর’ নেই।”
তার এই বক্তব্যে সংসদে হাসির রোল পড়ে।
এ সময় তিনি ব্যঙ্গ করে আরও বলেন, “আল্লাহ বাঁচাইছে, মাননীয় সংসদ সদস্য বলেননি যে বিজিবির সীমান্ত ব্যাংক আমার, কিংবা সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনও আমার। গুলশানের দিগন্ত টাওয়ার বা দিগন্ত টেলিভিশনও আমার এমনটাও বলেননি।”
শাহে আলম অভিযোগ করেন, তাকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে এ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগকারী সংসদ সদস্যের বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার পাশাপাশি অভিযোগকারী সংসদ সদস্যের বক্তব্যও কার্যবিবরণীতে থাকবে।” তিনি জানান, বক্তব্যে কোনো অসংসদীয় শব্দ বা মন্তব্য রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।