ভিডিও কলে স্ত্রীর সঙ্গে অন্য পুরুষকে দেখার পর, মিললো যুবকের মরদেহ

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার কানুয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে শাহাদাৎ হোসেন বাপ্পি (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

নিহত বাপ্পি উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শিয়ালকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দুই সন্তানের জনক।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাপ্পির স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম বিদেশে, বিশেষ করে জর্ডানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে এ বিষয়ে স্বামী ও তার পরিবারের আপত্তি ছিল। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে মীম বাবার বাড়িতে চলে যান।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিদেশ যাওয়ার কাগজপত্রের কাজের অজুহাতে মীম প্রায়ই ঢাকায় যেতেন। ১১ জুন তিনি ঢাকার একটি হোটেলে অবস্থান করলে ভিডিও কলে কথা বলার সময় বাপ্পি কক্ষে অন্য এক পুরুষকে দেখতে পান। এরপর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয় বলে দাবি পরিবারের।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪ জুন মীম ঢাকার থেকে বাবার বাড়িতে ফিরে বাপ্পিকে সেখানে যেতে বলেন। এরপর সোমবার রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

অন্যদিকে, হাফিজা আক্তার মীমের দাবি, রাতে খাবার খাওয়ার পর তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হলেও পরে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে ঘুম ভেঙে বাপ্পিকে খুঁজে না পেয়ে তিনি ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখেন। পরে ওড়না কেটে তাকে নিচে নামিয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।

তবে নিহতের মা রুবী বেগম এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, ছেলেকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, পুত্রবধূর অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এবং সেই বিষয়টি বাপ্পি জানতে পারার পর থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে রুবী বেগম শ্বশুরবাড়িতে গেলে তাকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মীমের চাচাতো ভাই বেল্লাল হাওলাদার তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

ভাণ্ডারিয়া থানার তদন্ত ওসি রত্নেশ্বর কুমার মণ্ডল জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সব দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।