কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর সাত বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক সুরতহালে শিশুটির শরীরে বলাৎকারের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ফজুমিয়ার চর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবাসংলগ্ন ছড়া থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ওয়াহিদুল ইসলাম স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে ওয়াহিদুল মাদ্রাসায় যায়। দুপুরে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও সে আর ফিরে আসেনি। পরে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং মাইকিং করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন একটি ডোবার পানিতে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
শিশুটির বাবা তৌহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, নিখোঁজ হওয়ার দিনই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা। পরে মরদেহ ডোবার পানিতে ফেলে রাখা হয়। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদ জানান, প্রাথমিক সুরতহালে শিশুটির শরীরে বলাৎকারের আলামত পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনির হোসেন বলেন, "মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আটক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।"



