রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। তার পরিবর্তে নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধ্যাপক জামালুন্নেসাকে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের তদারকি ব্যবস্থা জোরদার এবং চিকিৎসাসেবার নিয়মকানুন পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে কাজ শুরু করেছে। আলো-বাতাস ও অক্সিজেনের চলাচল স্বাভাবিক করতে তিনজন স্বাধীন পরামর্শকের অধীনে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিমার্জনের কাজ চলছে।
গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়। মৃত নবজাতকদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিন।
এ ঘটনায় রমনা থানায় মামলা করেন এক মৃত নবজাতকের বাবা। ঘটনা তদন্তে দ্রুত তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কমিটি নবজাতকদের মৃত্যুতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি পায়।
বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও দায়িত্বরত নার্স-স্টাফদের চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।”
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরদিন ৫ জুন আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এরই মধ্যে ৭ জুন মৃত নবজাতকদের পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী আইনজীবী শিশির মনির জানান, মারা যাওয়া ছয় নবজাতকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দিতে সম্মত হয়েছে হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ।
তবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বারবারই সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছিলেন। কারণ দর্শানোর নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যে জবাব দিয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও জানান তিনি।
এরপর গত ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল ঘোষণা করা হয়।



৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের, বলছে তদন্ত কমিটি 