Tuesday, June 16, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যমুনার ভাঙনে বিলীন শতাধিক ঘরবাড়ি

নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নেয়

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ১০:২১ পিএম

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার মন্নিয়ারচর এলাকায় যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে ইতোমধ্যে শতাধিক বসতবাড়ি ও কয়েকশ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে নিজেদের উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করে বাঁশের বাঁধ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের চর মন্নিয়া গ্রাম পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এবার একই ইউনিয়নের পূর্ব মন্নিয়া গ্রামে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে মুসলিম মিয়া, বারেক শেখ, সুলতান বেপারী, রফিক মিয়া, আয়নাল হক, জাহিদুল হক, আব্দুস সামাদ, নাসির উদ্দিন, আবু তালেব, ফোরকান মিয়া, আনিছুজ্জামান ও সুকুর মিয়াসহ প্রায় শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে।

এ ছাড়া ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কয়েকশ বিঘা কৃষিজমি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন আগেও যমুনা নদী অনেক দূরে ছিল। হঠাৎ করেই ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় একের পর এক বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। অতীতে ভাঙন রোধে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। তাই এখন নিজেরাই বাঁশের বাঁধ নির্মাণ করছেন।

মন্নিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কয়েক দিনের মধ্যেই বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে এ অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

দক্ষিণ মন্নিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার খানম বলেন, “নদী এখন বিদ্যালয় থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরে। শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।”

সাবেক ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, “ভাঙনের কারণে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, কৃষিজমি ও অসংখ্য বসতঘর হুমকির মুখে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে।”

বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক আকন্দ বলেন, “অসময়ে শুরু হওয়া এই ভাঙন স্থানীয় মানুষের জন্য বড় ধরনের দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। সরকারের স্থায়ী উদ্যোগ না থাকায় এলাকাবাসী নিজেরাই বাঁশের বাঁধ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।”

এ বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান বলেন, “যমুনার এই বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে ছোট পরিসরের ডাম্পিং করে ভাঙন প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এ জন্য বৃহৎ প্রকল্প প্রয়োজন। সমীক্ষা শেষে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।”

   

About

Popular Links

x