বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির দুই নেতা স্থানীয় জনতার হাতে আটক ও গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে লিখিত মুচলেকা দিয়ে তারা মুক্তি পান। অভিযোগের পরদিনই তাদের দলীয় পদ স্থগিত করেছে বিএনপি।
সোমবার (১৫ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেন্ডিতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তরা হলেন চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মেহেদি হাসান জাকির মোল্লা এবং একই ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রেন্ডিতলা এলাকার ড্রেজার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম একটি বালু ভরাটের কাজ পান। অভিযোগ রয়েছে, সেই কাজ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন অভিযুক্ত দুই বিএনপি নেতা। সোমবার রাতে তারা আবারও টাকা আদায়ের জন্য ফোন করলে নজরুল ইসলাম তাদের ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।
রাত ১০টার দিকে তারা সেখানে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে। এ সময় গণপিটুনির পর একটি দোকানে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্ত দুই নেতার দলীয় পদ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন স্বপন বলেন, “দলের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজিতে জড়ালে তার কোনো ছাড় নেই। অভিযুক্ত দুই নেতার সব সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখা এবং দলীয় কার্যক্রম থেকে তাদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
ড্রেজার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “বালু ভরাটের কাজ পাওয়ার পর থেকেই দুই নেতা তার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। আমি তাদের কাজটি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তারা রাজি হননি এবং তারা নগদ টাকা দাবি করেন।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেহেদি হাসান জাকির মোল্লা। তার দাবি, তারা চাঁদা নয়, বালু ভরাটের কাজ চেয়েছিলেন। নজরুল ইসলাম কাজ শেষে বসে বিষয়টি মীমাংসার কথা বললেও পরে পরিকল্পিতভাবে তাদের ফাঁসানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান রেমু বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”