জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারে (ইউএনএইচসিআর) প্রথমবারের মতো নির্বাহী কমিটির (এক্সকম) ব্যুরোর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। দেশের বহুপক্ষীয় কূটনীতির ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
বুধবার (১৭ জুন) এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান আনুষ্ঠানিকভাবে চার সদস্যবিশিষ্ট এক্সকম ব্যুরোর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৫৯ সালে ইউএনএইচসিআর-এর নির্বাহী কমিটির কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ কখনো ব্যুরোতে দায়িত্ব পালন করেনি।
এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সর্বসম্মত প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ মনোনীত হয়। পরে ভিন্ন দুটি আঞ্চলিক গ্রুপের প্রতিনিধিত্বকারী আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এ মনোনয়নে সমর্থন দেয়।
পরবর্তীকালে নির্বাহী কমিটির ১১০ সদস্যরাষ্ট্রের সকলে রাষ্ট্রদূত সোবহানের মনোনয়ন অনুমোদন করে।
বার্তায় আরো বলা হয়, এ নির্বাচন বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় দেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন।
পেশাদার কূটনীতিক নাহিদা সোবহান এর আগে রোম, কলকাতা ও জেনেভায় বাংলাদেশ মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি জর্ডানে রাষ্ট্রদূত এবং কানাডায় হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ইউএনএইচসিআরসহ বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন।
বার্তায় বলা হয়, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পক্ষে সোচ্চার বাংলাদেশের জন্য এই দায়িত্ব গ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
বিশ্বজুড়ে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুতি, ক্রমবর্ধমান মানবিক চাহিদা এবং তহবিল সংকটের মধ্যে বৈশ্বিক শরণার্থী সুরক্ষা ব্যবস্থার এক সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশ এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করল।
উল্লেখ্য, মানবিক সহায়তা ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ইস্যুতে একে বাংলাদেশের গঠনমূলক নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দায়িত্ব ভাগাভাগির প্রতি অঙ্গীকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।