রাজশাহী মহানগরীতে রাজশাহী নার্সিং কলেজ হোস্টেলে একজন বহিরাগতকে চোর সন্দেহে মারপিটে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহতের বোন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজশাহী নার্সিং কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সাতক্ষীরা জেলার তালা থানার তালা গ্রামের ছেলে সোয়েব আক্তার শিমু (২৫), নড়াইল জেলার নড়াইল সদর থানার ভাওখালী গ্রামের ফাহিম রেজা ববি (২৪) এবং রাজশাহী জেলার মোহনপুর থানার চাঁদপুর গ্রামের আতিকুর রহমান (২৫)। তারা রাজশাহী নার্সিং কলেজের পুরুষ হোস্টেলে অবস্থানরত শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগর পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আনুমানিক রাত ৮.৩০ টায় একজন অজ্ঞাত নামা যুবককে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল এর জরুরি বিভাগে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি রাজপাড়া থানাকে জানালে পিবিআই এর মাধ্যমে লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত ব্যক্তির নাম রাকিবুল হাসান রকি (৩১)। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিটের দাগ থাকায় নিহতের বোন বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা, গোয়েন্দা তথ্য, ছাত্রদের ভাষ্য এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয় রাজশাহী নার্সিং কলেজের হোস্টেলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ যুবক প্রবেশ করলে চুরি করার সন্দেহে ছাত্ররা তাকে ধরে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে এলোপাথাড়ি মারপিট করে। এতে করে রকি গুরুতর আহত হলে ছাত্ররা তাকে রাত ৮.৩০ টায় মেডিক্যালের ইমার্জেন্সি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নিহত রাকিবুল হাসান রকি চুরির উদ্দেশ্যে রাজশাহী নার্সিং কলেজের পুরুষ হোস্টেলে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় হোস্টেলে অবস্থানরত কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে আটক করে। পরবর্তীতে তাকে কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে ক্রিকেট খেলার স্টাম্পসহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করা হয়।
মারধরের একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ ও নিস্তেজ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর অভিযুক্তরা হাসপাতাল ত্যাগ করে বলে তদন্তে জানা গেছে।
যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মামলার ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃতরা আসামীদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।