গাজীপুরে নদীভাঙন: ঝুঁকিতে থানাভবন, মসজিদ ও মন্দির

শীতলক্ষ্যা নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানা ভবন। জানা গেছে, ভাঙতে ভাঙতে নদী এখন থানার সীমানা প্রাচীরের কাছে চলে এসেছে। গত কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ায় থানার একমাত্র পাকা ভবনটি এখন যেকোনো সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর। নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং ভাঙনের ফলে থানার সীমানাঘেঁষে প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শনিবার (২০ জুন) সকালে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। নদীর ভাঙনে শুধু থানা ভবনই নয়, কাপাসিয়া বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, কাপাসিয়া থানা মসজিদ এবং ঐতিহ্যবাহী কাপাসিয়া জয়কালী মন্দিরও ঝুঁকিতে রয়েছে। 

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে শীতলক্ষ্যা নদীর ভাঙন দেখা দিলেও এবার পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভয়াবহ। প্রতিদিন নদীর তীরে নতুন নতুন ফাটল সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে স্থানীয়রা। নদীর ডান তীর ঘেঁষে থাকা বিভিন্ন স্থাপনার নিচের মাটি সরতে শুরু করেছে। কয়েকটি স্থানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় পুরো এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় শীতলক্ষ্যা নদীর ডান তীর সংরক্ষণে কাপাসিয়া থানার সীমানা সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত বাঁধ নির্মাণ, ব্লক স্থাপনের দাবি জানান তারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে আছে পুলিশ প্রশাসন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষ।

কাপাসিয়া থানার পিছনের অংশে শীতলক্ষ্যা নদীর ডান তীর ঘেঁষে থানার সীমানায় নদীর ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর চিঠি দিয়েছেন কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ। তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন, নদীর ডান তীর ঘেঁষে প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা শীতলক্ষ্যা নদী ইউটার্ন করায় থানা সংলগ্ন নদীর সীমানায় বাঁকের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নদীর প্রবল স্রোত এবং জোয়ারের পানিতে থানার সীমানায় নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে করে কাপাসিয়া থানার নদীর তীরবর্তী জায়গা জুড়ে বিভিন্ন স্থানে মাটির ভিতরের অংশে গভীর গর্তের তৈরি হয়েছে এবং থানার সীমানা প্রাচীরেও (বাউন্ডারি ওয়াল) ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।”

মন্দিরের নিকট থানার সীমানা প্রাচীরের প্রায় ৫০/৬০ বর্গ ফুটের মত জায়গার মাটি গাছগাছালি ও পাকা নালা নদীর ভাঙনে পানিতে ডুবে গেছে। 

কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীম ভাঙনকবলিত কাপাসিয়া থানা ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের আশ্বাস দেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাজীপুর কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রায়হান খান বলেন, “ওই এলাকা আমরা পরিদর্শন করেছি। আমাদের কাজ হলো নদী ভাঙলে ওই ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া। ভাঙনটা কিন্তু নদী ঘেঁষে শুরু হয়নি, থানার সীমানা প্রাচীরের ভিতর। তবে কিছু কিছু অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ বছর জুন চলে যাওয়ায় বরাদ্দ নাই। সামনের বছর অর্থাৎ এ জুনের পরেই পানি কমলে আমরা কাজটা করে দেবো। থানার সীমানা প্রাচীরের ভেতর যে ফাটল দেখা দিয়েছে সেটার জন্য আমরা থানা কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়েছি যেন তারা নিজ দায়িত্বে ওই ফাটলরোধে কাজ করে ফেলে। কারণ, ভেতরের ফাটল আমাদের আওতায় বা কাজের মধ্যে পড়ে না।”