শত কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি তিস্তা ব্রিজ রক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন

তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আবারও রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিস্তা ব্রিজ রক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ ফিট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী ।

এদিকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় অবস্থিত তিস্তা ব্রিজের আধা কিলোমিটার দূরে শংকরদহ গ্রামের কাছে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তবে এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা নিক্ষেপ করা হলে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা সম্ভব।

রবিবার (২১ জুন) দুপুর দেড়টায় সরেজমিন ভাঙ্গন কবলিত তিস্তা ব্রিজ রক্ষা বাঁধের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনকালে এলাকাবাসির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরও ওই এলাকায় ১০০ ফিট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এবারেও একই জায়গায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তবে সেখানে নদীর স্রোত আপাতত কম থাকায় ভাঙ্গনের তীব্রতা সেভাবে হয়নি। নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

শংকরদাহ গ্রামের মোশারফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তিস্তা ব্রিজটি এলজিইডির হওয়ায় গত বছর তারা ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ক্ষতিগ্রস্থ স্থানে ১ হাজার বস্তা জিও ব্যাগ নিক্ষেপ করলে আর নতুন করে ভাঙ্গনের মুখে পড়তে হতো না। বরং এলজিইডি আর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাঁশ দিয়ে ভাঙ্গন প্রতিরোধের নামে লাখ লাখ টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছে।

লক্ষ্মিটারী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি নুরল ইসলাম অভিযোগ করেন বলেন, তিস্তা ব্রিজ রক্ষা বাঁধের যে অংশে ফাটল ধরে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে সেখানে কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিয়ে ৫০০ গজ দূরে বাঁশ দিয়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা চরম বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। এর মাধ্যমে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

রংপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি বলেন, “খবর পেয়ে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় এসেছি। ওই এলাকা গত বছরও ভাঙ্গনের কবলে পড়েছিল। কয়েক বছর ধরে ওই এলাকা ভাঙ্গনের কবলে পড়ছে। এ ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তা না হলে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিস্তা ব্রিজটি হুমকিতে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।”

ভাঙ্গন কবলিত শংকর দাহ গ্রামটি লক্ষ্মিটারী ইউনিয়নের। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাদি জানান, গত কয়েকদিন ৭০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তবে ৭০ ফুট গর্তের সৃষ্টি হয়নি। তিস্তা ব্রিজটি এলজিইডির অধীন। হয় তাদের অথবা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। তা নাহলে নদীর বৃদ্ধি পেলে তিস্তা ব্রিজটি হুমকির মধ্যে পড়তে পারে বলে আমরা আশংকা করছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর ৩টায় ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ৫১.৭৪ সেন্টিমিটার বা বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অপরদিকে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে দুপুর ১২টায় ২৮.৫৬ সেন্টিমিটার বা বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বার্হী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, “এখন তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্রিজ রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে বলা যায় না। তারপরেও আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি।”